ঢাকা, রবিবার ০১, আগস্ট ২০২১ ১১:২২:০৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
শোকাবহ আগস্টের প্রথম দিন আজ লকডাউনে আটকেপড়া পোশাক শ্রমিকরা চাকরি হারাবে না দেশে একদিনে করোনায় ২১৮ মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ৯৩৬৯ ডেল্টার নতুন ধরনে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কম শিল্পকারখানা খোলার খবরে ঢাকামুখী মানুষের ঢল হেলেনার বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় আরেক মামলা

সুপার-ফুড শশা কেন খাবেন, কিভাবে খাবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:৪৪ পিএম, ৬ জুলাই ২০২১ মঙ্গলবার

ফাইল ছবি।

ফাইল ছবি।

শশা আমাদের সকলের পরিচিত খাবার। সাধারণতা স্যালাদ হিসেবে শশা ব্যবহার করতে অভ্যস্ত আমরা। তাজা শশা স্বাস্থ্যের পক্ষে ভীষণ উপকারী। এটি একটি সর্বোত্তম উদ্ভিদ খাদ্য; একটি আসল সুপার-ফুড। 

লো ক্যালোরিসমৃদ্ধ শশায় রয়েছে ভিটামিন বি, থিয়ামিন (বি১), রাইবোফ্লাবিন (বি২), নিয়াসিন (বি৪), প্যানটোথেনিক, বি৫, বি৬, ফোলেট (বি৯), ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, গ্লুকোজ, স্নেহপদার্থ, ফাইবার, প্রোটিন, বিভিন্ন ধরনের খনিজ পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, ম্যাগনেশিয়াম, লোহা, সোডিয়াম, দস্তা, ক্যালোরি, সব থেকে বেশি থাকে জলীয় পদার্থ।  
 
নিয়মিত পানি পান করা অনেকের জন্য ক্লান্তিকর বা স্বাদহীন। প্রতিদিন এবটি ঠান্ডা শশা খান। কারণ এটি শরীরের ৯৫-৯৭ শতাংশ আর্দ্রতা এবং পানিশূন্যতা দূর করে। কারণ শশার ৯০ শতাংশই পানি। নিয়মিত শশা খেলে বিভিন্ন রোগ থেকেও দূরে থাকা যায়।

শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পুষ্টি পাওয়া যায় শশা থেকে। ক্ষুধা লাগলে অস্বাস্থ্যকর খাবার না খেয়ে শশা খান। এটি অনেকক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখবে। প্রতিদিন শরীরে যে সমস্ত ভিটামিনের প্রয়োজন বেশির ভাগই শশায় আছে। ভিটামিন এ, বি ও সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

শশায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি, বেটা-ক্যারোটিন ও ম্যাঙ্গানিজ শরীরের ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল দূর করে।

শশায় রয়েছে ভিটামিন বি১, ভিটামিন বি৫ এবং ভিটামিন বি৭। এসব ভিটামিন এনার্জি প্রদান করে শরীরকে।

শশার জলীয় অংশ দেহের বর্জ্য ও দূষিত পদার্থ বের করতে দারুণ কাজ করে। নিয়মিত শশা খেলে কিডনিতে সৃষ্ট পাথর গলে যেতে সহায়তা হয়। ইউরিনারি, ব্লাডার, লিভার ও প্যানক্রিয়াসের সমস্যার সমাধানে বেশ সাহায্য করে শশা।

শশা ডায়াবেটিস বা সুগারের সমস্যা প্রতিরোধ করে। শশায় থাকা বিশেষ উপাদান রক্তের কোলেস্টরলের মাত্রা কমাতে পারে। ১০০ গ্রাম শশার রস খালি পেটে রোজ সকালে খেলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে আসে। সকালের খাবারের ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে খেতে হবে। মাসখানেক এই ভাবে খেলে উপকার পাবেন।

শশার রস নিয়মিত খাওয়ার ফলে মস্তিস্কে ও ধমনীতে জমে থাকা প্রচুর এলডিএল হ্রাস করে। ফলে স্মৃতিশক্তিও বৃদ্ধি পায়। হজমের গণ্ডগোল দূর করে শশা।

শশায় আছে প্রচুর ভিটামিন সি, ম্যাগনিসিয়াম, সিলিকা, পটাসিয়াম ও আঁশপদার্থ।  এগুলি শরীরের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। শশার উপাদান উচ্চ এবং নিম্ন রক্তচাপ দু’ই নিয়ন্ত্রণ করে। হার্ট ও ফুসফুসের সমস্যায় উপকার করে। হার্ট সুস্থ রাখে।

এতে উচ্চমাত্রায় পানি থাকে। নিম্নমাত্রায় ক্যালরি থাকে। ফলে দেহের ওজন কমাতে আদর্শ এটি। 

কাঁচা শশা চিবিয়ে খেলে ভালো হজম হয়। এরেপসিন নামক অ্যানজাইমের জন্য  দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। আলসার, গ্যাস্ট্রাইটিস, অ্যাসিডিটির ক্ষেত্রেও উপকারী।

প্রচুর পরিমাণে সিলিকা থাকে এতে। গাজরের রসের সঙ্গে শশা রস মিশিয়ে খেলে দেহের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কমে। গেঁটেবাতের ব্যথা কমে। আর্থ্রাইটিসের ব্যথাও উপশম করে।

সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর যে মাথাব্যথা হয়, শরীরে অবসাদ আসে তা শশার উপাদানসমূহ যেমন, ভিটামিন বি ও সুগার এ সব দূর করে। ঘুমাতে যাওয়ার আগে কয়েক টুকরো শশা খেলে ঘুম থেকে ওঠার পরের এই সমস্যা দূর হয়।

শশায় বিশেষ তিনটি আয়ুর্বেদিক উপাদান থাকে। এটি জরায়ু, স্তন ও মূত্রগ্রন্থিসহ বিভিন্ন স্থানে ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।

শশা গোল করে কেটে চোখের পাতার ওপর রাখলে চোখের পাতায় জমে থাকা ময়লা  অপসারিত হয়, তেমনি চোখের জ্যোতি বাড়ায়। এমনকি চোখের প্রদাহ প্রতিরোধক উপাদানও আছে এতে। ছানি পড়া আটকায় শশা।

প্রতিদিন শশা খেলে চুল, ত্বক ও নখ ভালো থাকে। শশায় থাকা খনিজ চুল ও নখকে সতেজ ও শক্তিশালী করে। এ ছাড়া সালফার ও সিলিকা চুল বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ত্বক ভালো রাখে।  

শশা দেহের বর্জ্য ও দূষিত পদার্থ, টক্সিন দূর করে। শশা চিবিয়ে খেলে মুখে থাকা জীবাণু দূর হয় ও দাঁত ভালো থাকে। নিয়মিত খেলে দুর্গন্ধ, সংক্রমণ, আক্রান্ত মাড়ির চিকিৎসা করে। গোল করে কেটে এক টুকরো শশা জিভের ওপরে তালুতে চাপ দিয়ে আধ মিনিট রাখলে তা বিশেষ বিক্রিয়া ঘটিয়ে মুখের জীবাণু ধ্বংস করে। নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ, দাঁত ও মাড়ির সমস্যা দূর করে।

সূর্যের তাপে ত্বকে জ্বালা অনুভব হলে ত্বকে শশা মাখলে ভালো ফল হয়। এতে উপস্থিত সিলিকা কার্টিলেজ, লিগামেন্টের কানেকটিভ টিস্যু গড়ে ওঠে এবং দেহকলাকে শক্তিশালী ও মজবুত করে।