ঢাকা, বুধবার ০৫, আগস্ট ২০২০ ১৯:৫৯:৪৪ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
সিনহার মৃত্যু বিচ্ছিন্ন ঘটনা: সংবাদ সম্মেলনে সেনা ও পুলিশ প্রধান হাওড়ে ঘুরতে গিয়ে নৌকাডুবি, দুই শিশুসহ নিহত ১৭ দেশে আরো ৩৩ মৃত্যু, শনাক্ত ২,৬৫৪ ১৫ আগস্ট মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে সিনহার বোনের মামলা

হলি আর্টিজান জঙ্গি হামলার চার বছর পূর্তি আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:১৫ পিএম, ১ জুলাই ২০২০ বুধবার

হলি আর্টিজান জঙ্গি হামলার চার বছর পূর্তি আজ

হলি আর্টিজান জঙ্গি হামলার চার বছর পূর্তি আজ

রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টের নৃশংস জঙ্গি হামলার চার বছর পূর্তি আজ বুধবার। আজকের এই দিনে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ও নৃশংস জঙ্গি হামলায় ইতালির ৯ জন, জাপানের সাত জন, ভারতীয় একজন ও বাংলাদেশি তিন জন নাগরিকসহ ২২  জনকে হত্যা করেছিল জঙ্গিরা।

এখন থেকে চার বছর আগের এই হামলার ঘটনায় ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাস বিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান রায় ঘোষণা করেন।
এদিকে, আজ বুধবার জঙ্গি হামলার চার বছর পূর্তি উপলক্ষে  সকাল থেকে নিহতদের স্বজনরা শ্রদ্ধা জানান। করোনা দুর্যোগের মধ্যে সীমিত পরিসারে শিডিউল মেনে জাপান, ইতালি এবং মার্কিন রাষ্ট্রদূতগণ শ্রদ্ধা জানাতে আসবেন।
আজ বুধবার  সকাল ১০ টায় ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে গুলশানের ৭৯ নম্বর রোডে হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে নিহতদের ফুলেল শ্রদ্ধা জানান  ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম।ছাড়াও ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন র‌্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বিপিএম, পিপিএম ও বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশন।  চার বছর পূর্তি উপলক্ষে সকাল থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত জনসাধারণের জন্য হামলার স্থান উন্মুক্ত থাকবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে যে কেউ শ্রদ্ধা জানাতে পারবে।

পুলিশ ও দেশের আইনশৃংখলা বাহিনী বলছে, জঙ্গি হামলার কোনো সম্ভাবনা নেই।সাধারণত যেসব এলাকায় জঙ্গি হামলা হয়, সেইসব জায়গায় হামলার বর্ষপূর্তিতে আবারও হামলা হওয়ার শঙ্কা থাকে।  তাছাড়া হলি আর্টিজান হামলার পর গুলশানসহ আশপাশের এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হয়েছে।

পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ, র‌্যাব সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাত পৌনে ৯টার দিকে রাজধানী গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় বন্দুকধারী জঙ্গিরা। ওই দিন রাতেই তারা দেশি-বিদেশি মোট ২০ জনকে হত্যা করে। বিদেশি যারা নিহত হয়েছিলেন,  ইতালির ৯ জন, জাপানের সাত জন, ভারতীয় একজন ও বাংলাদেশি তিন নাগরিকসহ রেস্তোরাঁর কর্মচারীদের মধ্যে দু’জন প্রাণ হারান। একই ঘটনায় জঙ্গিদের গ্রেনেডের আঘাতে রেস্তোরাঁর বাইরে মারা যান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) রবিউল করিম ও বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাউদ্দিন খান। পরদিন সকালে যৌথ বাহিনীর অভিযানে নিহত হন পাঁচ হামলাকারী। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরেক জঙ্গির মৃত্যু হয়।

হামলাকারী জঙ্গিরা হলেন, রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, নিবরাস ইসলাম, মীর সামিহ মোবাশ্বের, খায়রুল ইসলাম পায়েল ও শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল ওরফে বিকাশ।

ঘটনার পরবর্তীতে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এ হামলার দায় স্বীকার করে। সংগঠনটির মুখপত্র আমাক হামলাকারীদের ছবি প্রকাশ করে বলে জানায় জঙ্গি তৎপরতা পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স।

আইনশৃংখলা বাহিনী সুত্রে জানা গেছে, এ জঙ্গি হামলাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহত হয় মাস্টারমাইন্ড তামিম আহমেদ চৌধুরী, জাহিদুল ইসলাম, তানভীর কাদেরী, নুরুল ইসলাম মারজান, আবু রায়হান তারেক, সারোয়ার জাহান, আব্দুল্লাহ মোতালেব, ফরিদুল ইসলাম আকাশ, বাশারুজ্জামান চকলেট ও ছোট মিজান।

হলি আর্টিজানে হামলায় ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মোট ২১ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল। হামলার দুই বছর পর আদালতে দাখিল করা চার্জশিটে ওই ২১ জনের নামই দেওয়া হয়। তবে, ২১ জনের মধ্যে ১৩ জনই বিভিন্ন জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত হন।

এই মামলার বিচার শুরুর সময় ৮ আসামির ৬ জন কারাগারে ছিলেন। বিচার চলাকালে বাকি দুজন গ্রেফতার হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনের ৬(২)(অ), ৭, ৮, ৯, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় চার্জগঠন করা হয়। মোট ২১১ জন সাক্ষীর ১১৩ জন অত্র আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।

ঘটনার প্রায় সাড়ে তিন বছর ও চার্জশিট জমা দেওয়ার প্রায় দেড় বছর পর ২০১৯ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালে হলি আর্টিজান মামলার রায় হয়। মামলার অভিযোগ গঠনের পর ৫২ কার্যদিবসে যুক্তিতর্ক শেষে এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। ২০১৮ সালের ২৬ নভেম্বর এই মামলার অভিযোগ গঠন হয় আদালতে।
এরপর মোট ৫২ কার্যদিবসে যুক্তিতর্ক শেষে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে উপনীত হয়। মামলার মোট ২১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং একজনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

জানা যায়, ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম বিভাগের পরিদর্শক হুমায়ূন কবির মামলাটির চার্জশিট ঢাকা মহানগর মুখ্য হাকিম (সিএমএম) আদালতে দাখিল করেন। এরপর ২৬ জুলাই সিএমএম আদালত মামলাটি ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন। অন্যদিকে, চার্জশিটে ২১ জন আসামির নাম থাকলেও তাদের মধ্যে ১৩ জন বিভিন্ন সময় জঙ্গিবিরোধী অভিযানে মারা যান। এই ১৩ জনকে অব্যাহতি দিয়ে বাকি আট জনকে অভিযুক্ত করা হয় চার্জশিটে।

মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিরা হলেন, গাইবান্ধার জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী, নওগাঁর আসলাম হোসেন ওরফে আসলামুল ইসলাম ওরফে রাশেদ, কুষ্টিয়ার আবদুস সবুর খান ওরফে সোহেল মাহফুজ, জয়পুরহাটের হাদীসুর রহমান ওরফে সাগর, বগুড়ার রাকিবুল হাসান ওরফে রিগ্যান, মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন ও রাজশাহীর শরিফুল ইসলাম ওরফে খালেদ। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজানকে বেকসুর খালাস দেন আদালত।