ঢাকা, রবিবার ২২, মার্চ ২০২৬ ২৩:২২:৫৮ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
একাত্তরে গণহত্যাকে স্বীকৃতির দাবিতে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব কুমিল্লায় যাত্রীবাহী বাসে ট্রেনের ধাক্কা, নিহত ১২ দেশের বাজারে সোনার দামে বড় পতন নারী ফুটবলের বিকাশে নতুন সিদ্ধান্ত ফিফার কুমিল্লায় ট্রেন দুর্ঘটনা: ২ গেটম্যান বরখাস্ত, তদন্তে ৩ কমিটি অনেক নারী এখনও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত: এড. দিলশাদ

আত্মহত্যার আগে ডায়েরিতে কষ্টের কথাগুলো লিখে গেলেন রত্না

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:১৯ এএম, ৩ নভেম্বর ২০২২ বৃহস্পতিবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ভোলার লালমোহন উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নে আত্মহত্যার আগে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের অনেক যন্ত্রণা আর অপবাদ লাঞ্ছনা সহ্য করতে না পেরে ডায়েরির পাতায় কষ্টের কথাগুলো লিখে আত্মহত্যা করেছেন এক গৃহবধূ।বুধবার (৩ নভেম্বর) লালমোহন থানার ওসি মো. মাহাবুবুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত রোববার রাতে ওই ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মাহাবুব চৌকিদারের বাড়িতে মোবাইল ও স্বর্ণের চেন চুরির অপবাদ সইতে না পেরে বিষপান করে আত্মহত্যা করেন তিনি।

নিহত জান্নাতুল ফেরদৌস রত্না (২৫) ভোলার লালমোহনের চরভূতা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মো. লিটনের স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের মা।

ডায়েরিতে রত্না লিখেছেন-‘আমার জন্য দোয়া করবেন আমি যাতে পরপারে ভালো থাকতে পারি। সবার মতো আমিও সুন্দর একটা জীবন নিয়ে সংসার করতে চেয়েছি। কিন্তু এ সমাজ আমাকে বেঁচে থাকতে দিলো না। মিথ্যা কলঙ্কের বোঝা মাথায় নিয়ে সমাজে মুখ দেখাতে ইচ্ছা করে না। বাবা-মা স্বামীর সম্মানের দিকে তাকিয়ে কখনও কোনো পরপুরুষের সঙ্গে কথা বলি নাই, নিজের চরিত্রকে খারাপ করি নাই। কিন্তু আজ আমি চুরি না করেও চোর সবার মুখে মুখে’।

‘বাবাকে অনুরোধ আমার স্বামীকে বাদে বাকি কাউরে ছাড় দিবা না, ওরা সবাই মিথ্যাবাদী। আমার চাচাশ্বশুর ওরা সবাই নাটেরগুরু। ওরা সবাই আমার নামে মিথ্যা অপবাদ রটাইছে। আমি কতটা বিশ্বাসী আর সৎ ছিলাম, সেটা আমার আল্লাহ ছাড়া কেউ জানে না। একটা মানুষের জীবন ছাড়া প্রিয় আর কি হতে পারে! আমি আমার জীবনের বিনিময়ে বলছি আমি চুরি করি নাই। এখন তোরা খুশি, সবাই খুশিই থাক। আমি চলে গেলাম। কেউ আর তোদের সঙ্গে সত্যের প্রতিবাদ করবে না। আর বেশি কিছু লিখলাম না। অনেক কথা বলার ছিল সমাজকে, এই সমাজে ভালো মানুষের মূল্য নাই। সবার কাছে একটা অনুরোধ রইল আমার মেয়েদেরকে দেখেন। ওদের জন্য আমার কতটা কষ্ট হয় বলে বোঝাতে পারব না। মা ছাড়া কতটা অবহেলিত সন্তান সেটা যার মা নাই সে বুঝে। বাবা-মা পারলে ওদের খেয়াল নিও, না পারলে জোর নাই।

নিহতের বাবা আবুল কাশেম জানান, কিছুদিন আগে রত্নার চাচাশ্বশুর মো. হাফিজুর রহমান তার পরিবার নিয়ে ভারত থেকে ওই বাড়িতে বেড়াতে আসে। ভারতে তিনি বিয়ে করে ধর্মান্তরিত হয়ে সন্তোষ দে নামে বসবাস করেন। তিনি নিজেদের সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার রত্নার কাছে জমা রাখেন। ওই ঘর থেকে একটি স্বর্ণের চেন ও মোবাইল ফোন চুরি হয়। এই চুরির অপবাদ চাচাশ্বশুর রত্নার ওপর দেয়।

তিনি অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে চুরির অপবাদ দিয়ে কয়েক দিন পর্যন্ত মানসিকভাবে অত্যাচার করে তার চাচাশ্বশুর ও বাড়ির অন্যান্য স্বজনরা। অপমান সহ্য করতে না পেরে রত্না ঘরে থাকা কীটনাশক পান করে।

নিহতের স্বামী লিটন জানান, আমার স্ত্রীকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমার চাচারা অনেক গালিগালাজ করেছে। তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে।

এ বিষয়ে লালমোহন থানার ওসি মো. মাহাবুবুর রহমান জানান, এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। রত্নার মরদেহ ময়নাতদন্ত করে আনা হয়েছে। প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যুর একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।