ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৮, জুন ২০২৬ ০:৩৯:০২ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
‘স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির তৃতীয় ধাপের উদ্বোধন রাতে মাঠে নামছে রোনালদোর পর্তুগাল চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যার প্রধান আসামি আবিরের মৃত্যুদণ্ড বিমানে দায়িত্ব দিয়ে ফের প্রত্যাহার, আলোচনায় শাহনাজ ইউএনএইচসিআর নির্বাহী কমিটির ব্যুরোর সভাপতির দায়িত্বে বাংলাদেশ ফের আদালতে মমতা, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে পিটিশন দায়ের ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ: এক ম্যাচে মেসির যত রেকর্ড

চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যার প্রধান আসামি আবিরের মৃত্যুদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:৪২ পিএম, ১৭ জুন ২০২৬ বুধবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

চট্টগ্রামের চাঞ্চল্যকর পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবির আলীর মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। আজ বুধবার (১৭ জুন) ষষ্ঠ অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাসের আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষ শুরু থেকেই আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দাবি করে আসছিল ।

২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রামের ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় শিশু আয়াত। এই ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। নিখোঁজের ১০ দিন পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তে জানতে পারে, আয়াতকে অপহরণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত তাদের বাসার ভাড়াটে মো. আবির আলী ।

পিবিআইয়ের তদন্তে উঠে আসে, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে আয়াতকে অপহরণ করা হয়েছিল। কিন্তু পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ায় আবির তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর নৃশংসভাবে আয়াতের মরদেহ ছয় টুকরো করে আলাদা ব্যাগে ভরে সাগরপাড় ও খালের পাশে ফেলে দেয় । এই ঘটনা দেশের বিবেকবান মানুষকে স্তম্ভিত করে দেয়।

২৫ নভেম্বর, ২০২২ তারিখে আবির আলীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সে হত্যার কথা স্বীকার করে। তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআইয়ের তৎকালীন পরিদর্শক মনোজ দে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে মো. আবির এবং তার ১৭ বছর বয়সী এক বন্ধুকে আসামি করা হয়। অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় ওই বন্ধুর বিচার শিশু আদালতে চলছে এবং আবির বর্তমানে কারাগারে রয়েছে ।

আয়াতের বাবা সোহেল রানা এবং মা সাহেদা আক্তার শুরু থেকেই তাদের মেয়ের হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, বিশেষ করে মৃত্যুদণ্ড দাবি করে আসছিলেন। আয়াতের বাবা বলেন, “আমার মেয়েকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি হত্যাকারীর ফাঁসি চাই।” আয়াতের মা সাহেদা আক্তারও বলেন, “এক মুহূর্তের জন্যও মেয়ের মুখ ভুলতে পারিনি। আমরা আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই” ।

মামলাটিতে মোট ৩৩ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালত আজ এই রায় ঘোষণা করলেন। এই রায় শিশু হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ দমনে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।