ঢাকা, বুধবার ১৮, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৪:০৯:৩৩ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
মা-বাবার কবর জিয়ারত করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাল সচিবালয়ে অফিস করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুপার এইটে জিম্বাবুয়ে, অস্ট্রেলিয়ার বিদায় বুধবার স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নয়নে কাজ করবো: রুমিন ফারহানা শপথ নিলেন ২৫ মন্ত্রী ও ২৪ প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর শপথ নিলেন তারেক রহমান

নতুন মন্ত্রিসভায় নারী প্রতিনিধিত্ব প্রশ্নের মুখে

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৮:১৮ পিএম, ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মঙ্গলবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটে বিজয়ী হয়ে সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করেছে বিএনপি। দলটির পক্ষে নতুন সরকার গঠনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার আরেকটি অধ্যায় শুরু হলো বাংলাদেশে। আজ শপথ নিয়েছেন মোট ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। একইসঙ্গে তাদের মধ্যে দফতরও বণ্টন করা হয়েছে। তবে নতুন মন্ত্রিসভার কাঠামো প্রকাশের পরপরই বড় প্রশ্ন উঠেছে—নারী প্রতিনিধিত্ব এত কম কেন?

সরকারের সর্বোচ্চ নির্বাহী কাঠামোয় ৪৯ জন সদস্যের মধ্যে নারী রয়েছেন মাত্র ৩ জন। এর মধ্যে একজন পূর্ণমন্ত্রী এবং দুজন প্রতিমন্ত্রী। অর্থাৎ পুরো মন্ত্রিসভায় নারীর অংশগ্রহণ শতকরা হিসেবে ৬ শতাংশেরও কম।

৪৯ সদস্যের মন্ত্রিসভার একমাত্র নারী মন্ত্রী হলেন মানিকগঞ্জ-৩ (সদর ও সাটুরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আফরোজা খানম রিতা। তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। অপর দুজনের মধ্যে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন ফারজানা শারমিন পুতুল। আর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম।

এদিকে জাতীয় সংসদেও নারীর উপস্থিতি অত্যন্ত সীমিত। এবারের সংসদে নির্বাচিত হয়েছেন মাত্র ৭ জন নারী সংসদ সদস্য। এর মধ্যে ৬ জন এসেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

সংবিধান ও বাস্তবতার ফারাক

সংবিধানের মৌলিক নীতিতে নারী-পুরুষের সমানাধিকারের কথা বলা হলেও বাস্তব রাজনীতিতে তার প্রতিফলন খুবই সীমিত। বিভিন্ন সময়ে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো নারী ক্ষমতায়নের কথা বললেও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কেন্দ্রে নারীর উপস্থিতি এখনো ব্যতিক্রম হিসেবেই থেকে গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকালীন মনোনয়ন পর্যায় থেকেই নারী প্রার্থীদের প্রতি দলগুলোর অনীহা প্রকট হয়ে ওঠে। নিরাপদ ও গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোতে পুরুষ প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, ফলে সংসদে নারীর সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই কমে যায়। এর প্রভাব পড়ে মন্ত্রিসভা গঠনেও।

প্রতীকী নাকি প্রকৃত ক্ষমতায়ন?

নতুন মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত তিন নারী সদস্যকে গুরুত্বপূর্ণ দফতর দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও আলোচনার বিষয়। সমালোচকদের মতে, শুধু সংখ্যায় নয়, নারীদের প্রকৃত ক্ষমতা ও নীতিনির্ধারণে ভূমিকা কতটা কার্যকর—সেটিই আসল প্রশ্ন।

নারী অধিকারকর্মীদের ভাষায়, “যেখানে দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী, সেখানে মন্ত্রিসভায় তাদের উপস্থিতি ৩ জনে সীমাবদ্ধ থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ

দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেই নারীর রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর জন্য কোটা বা বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে জাতীয় সংসদে সরাসরি নির্বাচিত নারী সদস্যের সংখ্যা দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত। সংরক্ষিত নারী আসনের ব্যবস্থা থাকলেও সেগুলো সাধারণ নির্বাচনের বাইরে দলীয়ভাবে বণ্টন হওয়ায় নারীর প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু সংরক্ষিত আসনের ওপর নির্ভর করলে নারীর রাজনৈতিক নেতৃত্ব গড়ে ওঠে না। বরং সাধারণ আসনে নারীদের প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ বাড়াতে না পারলে এই বৈষম্য দীর্ঘস্থায়ী হবে।

নতুন সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ

নতুন সরকারের সামনে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে—নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়ে ওঠা এই সমালোচনার জবাব দেওয়া। উন্নয়ন, মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের প্রশ্নে সরকারকে আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ—দুই দিক থেকেই চাপের মুখে পড়তে হতে পারে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নারীর অংশগ্রহণ বাড়াতে হলে— মনোনয়ন পর্যায়ে ন্যূনতম কোটা নির্ধারণ, দলীয় কাঠামোয় নারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে যুক্ত করা, নির্বাচনী রাজনীতিতে নারীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা- এই তিনটি বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি প্রয়োজন।

প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার মুহূর্তে যে প্রশ্নটি সবচেয়ে জোরালোভাবে সামনে এসেছে, তা হলো— নারীরা কি এখনো রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ধারার বাইরে?

মন্ত্রিসভায় ৩ জন নারী এবং সংসদে ৭ জন নারী সদস্য—এই পরিসংখ্যান নতুন সরকারকে শুরুতেই বিব্রতকর বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। ক্ষমতার কেন্দ্রে নারীর অনুপস্থিতি শুধু প্রতিনিধিত্বের সংকট নয়, এটি রাষ্ট্র পরিচালনায় বৈচিত্র্য ও অন্তর্ভুক্তির ঘাটতিরও প্রতিচ্ছবি।

নতুন সরকার এই সমালোচনাকে কীভাবে মোকাবিলা করে এবং ভবিষ্যতে নারী রাজনৈতিক নেতৃত্ব গঠনে কী পদক্ষেপ নেয়—সেদিকেই এখন নজর দেশবাসীর।