ঢাকা, মঙ্গলবার ১৭, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৪:৩৫:৫৯ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
এখন আমার যাওয়ার পালা: প্রধান উপদেষ্টা নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ই-ভ্যাট রিটার্ন জমার সময় বাড়ালো এনবিআর ছুটি শেষে ধীরে ধীরে ঢাকাবাসী ফিরছেন ঘরে নতুন সরকারের শপথ কেন বঙ্গভবনের বাইরে? বঙ্গভবনের বদলে সংসদ প্রাঙ্গণে শপথ, ছোট হচ্ছে মন্ত্রিসভা নিউজিল্যান্ডের নতুন অধিনায়ক অ্যামেলিয়া আজ আকাশে দেখা যাবে ২০২৬ সালের প্রথম সূর্যগ্রহণ

নতুন সরকারের শপথ কেন বঙ্গভবনের বাইরে?

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:০৫ পিএম, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সোমবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

রাষ্ট্রীয় রীতি ও সাংবিধানিক প্রথা অনুযায়ী, দেশের নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান সাধারণত রাষ্ট্রপতির বাসভবন বঙ্গভবন-এ অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। স্বাধীনতার পর থেকে অধিকাংশ সরকারই এই ঐতিহ্য অনুসরণ করেছে। কিন্তু এবারের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনের বাইরে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে—রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ও ঐতিহ্য থেকে এই সরে আসার কারণ কী?

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এবারের শপথ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হচ্ছে একটি বৃহৎ জনসমাগমের উপযোগী স্থানে। যুক্তি হিসেবে দেখানো হচ্ছে, নতুন সরকারের সূচনা জনগণের সামনে উন্মুক্তভাবে উদযাপন করাই উদ্দেশ্য। আয়োজকদের দাবি, এতে জনসম্পৃক্ততা বাড়বে এবং অনুষ্ঠানটি হবে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক।

তবে সাংবিধানিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, শপথ অনুষ্ঠান কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি একটি রাষ্ট্রীয় আচার। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির উপস্থিতিতে ও তাঁর ক্ষমতাবলে শপথ গ্রহণের বিষয়টি গুরুত্ব বহন করে। ফলে স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে অনেকেই রাষ্ট্রীয় রীতি-ঐতিহ্যের ব্যত্যয় হিসেবে দেখছেন।

একজন সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন,
“বঙ্গভবনে শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের ধারাবাহিকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ঐতিহ্যের প্রতিফলন ঘটে। স্থান পরিবর্তন হলে সেটি অবশ্যই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, এ সিদ্ধান্তের পেছনে রাজনৈতিক বার্তাও থাকতে পারে। তাঁদের মতে, নতুন সরকার হয়তো শুরুতেই জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনের প্রতীকী উদ্যোগ নিতে চাইছে। তবে একই সঙ্গে তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার ক্ষেত্রেও কি রাজনৈতিক বার্তা দেওয়াই মুখ্য হওয়া উচিত?

এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, “স্থান বদলালেই বা কী আসে যায়?” আবার অনেকে মনে করছেন, রাষ্ট্রীয় আচার-অনুষ্ঠানে ঐতিহ্য বজায় রাখাই শোভন।

সব মিলিয়ে, নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনের বাইরে আয়োজনের সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক প্রয়োজন, রাজনৈতিক বার্তা ও রাষ্ট্রীয় ঐতিহ্যের টানাপোড়েনকে সামনে এনে দিয়েছে। এটি ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় প্রথা বদলের সূচনা নাকি সাময়িক ব্যতিক্রম—সে প্রশ্নের উত্তর মিলবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে।