ঢাকা, শনিবার ২১, মার্চ ২০২৬ ১৬:৫৫:৫০ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
রাজধানীতে আজ বন্ধ থাকছে মেট্রোরেল ঈদের দিন ফাঁকা রাজধানী, নিস্তব্ধতায় ভিন্ন এক ঢাকা জাতীয় ঈদগাহে একসঙ্গে নামাজ আদায় করলেন প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে ‘যমুনা’য় জনতার ঢল চাঁদরাতে কেনাকাটা: ভিড়ে মুখর নগর জীবন নারীদের জন্য রাজধানীর কোথায় কখন ঈদ জামাত আজ ঈদুল ফিতর, দেশজুড়ে আনন্দ-উৎসব

রোজার আগেই আবারও বাড়ল নিত্যপণ্যের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:০৬ এএম, ১৩ মার্চ ২০২২ রবিবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

কয়েক দিন ধরে সয়াবিনের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভে যখন ফুঁসছে ভোক্তারা তখনি আবার দাম বাড়ার ফাঁদে পড়েছে ২৪ নিত্যপণ্য। রোজা আগমনের সঙ্গে নিত্যপণ্যের মূল্য আরেক দফা বাড়ায় ক্রোদের পারদ যেন উর্ধ্বমুখী। দাম বাড়ার এ তথ্য প্রকাশ করেছে খোদ সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে দাম বাড়ার ২৪টি নিত্যপণ্যের মধ্যে সংসারের প্রয়োজনীয় ১০টি নিত্যপণ্য রয়েছে।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে এক মাস আগে খোলা আটার প্রতি কেজি দাম ছিল ৩৩ থেকে ৩৬ টাকা, যা এখন ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বেড়েছে ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ। আর মোড়কজাত ময়দার কেজি ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, যা এখন ৫২ থেকে ৬০ টাকা। অর্থাৎ দাম বেড়েছে ৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

গত এক সপ্তাহে মাঝারি মানের চালের দাম বেড়েছে ৪ শতাংশের মতো। গত সপ্তাহে ৫৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া চাল এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৮ টাকা কেজি দরে। মোটা চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ২ দশমিক ১৩ শতাংশ। অর্থাৎ গত সপ্তাহের ৪৮ টাকা কেজি দরের চাল এই সপ্তাহে বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে।

ফার্মের মুরগির ডিমের দামও হালিতে ৪ টাকা বেড়ে গেছে। গত সপ্তাহে ৩৬ টাকা হালি ও প্রতি ডজন ১০০ থেকে ১০৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। গতকাল তা প্রতি হালি ৪০ টাকা ও প্রতি ডজন ১১৫ টাকায় বিক্রি করা হয়।

১৪ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া আলু এই সপ্তাহের বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা কেজি দরে। টিসিবির হিসাবে, গত এক সপ্তাহে আলুর দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

গত এক সপ্তাহে দাম বাড়ার তালিকায় আরও রয়েছে ছোলা, আদা, রসুন, শুকনা মরিচ। তবে বাজারের প্রকৃত দামের সঙ্গে টিসিবির দামের কিছুটা তারতম্য রয়েছে।

বাজারে গিয়ে দেখা যায়, চিকন চাল ৫০ কেজির বস্তায় বেড়েছে ৩০০ টাকা। এভাবে সব কোম্পানির চালের দাম বস্তায় ২০০-৩০০ টাকা করে বেড়েছে।

চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভালো মানের মিনিকেট ও নাজিরশাইল চাল তারা বিক্রি করছেন ৬৩ থেকে ৭৫ টাকা কেজি। যা গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে দুই ২ টাকা বেশি।

এদিকে আগের মতো চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে ভোজ্যতেল। বোতলজাত সয়াবিন রাখছেন না দোকানদাররা। বিভিন্ন কোম্পানির পরিবেশকরা তেল নিয়মিত সরবরাহ করছেন না বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। খোলা সয়াবিন তেল ও পাম সুপার তেল পাওয়া গেলেও বিক্রি হচ্ছে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে।

টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের তুলনায় এই সপ্তাহে নতুন করে লিটারে দুই টাকা বেড়েছে খোলা পাম তেলের দাম।

গরুর মাংস আগে কেজি প্রতি ৫৮০ টাকা বিক্রি হলেও গত সপ্তাহে ছিল ৬০০ থেকে ৬২০ টাকা কেজি। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকা করে। টিসিবির হিসাবে গত এক সপ্তাহে গরুর মাংসের দাম বেড়েছে ৪ শতাংশের বেশি।

এদিকে খাসির মাংসও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে, কেজি প্রতি ৯০০-১০০০ টাকা।

সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মসুর ডালের (চিকন দানা) দাম। কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। এ ছাড়া নিম্ন আয়ের অনেক মানুষের অ্যাংকর ডালের দামও কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা দরে। আমদানি করা রসুনের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা। টিসিবির হিসাবে গত এক সপ্তাহে রসুনের কেজিতে দাম বেড়েছে ১৪ শতাংশ। এছাড়া দেশি পেঁয়াজ কেজিতে ৫ টাকা বেড়েছে। অর্থাৎ ৭০ টাকার নিচে দেশি পেঁয়াজ পাওয়া যায় না। আর আমদানি করা পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশের মতো। আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬৫ টাকা কেজি দরে।

গত কয়েক বছর ধরে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে দেশে অনেক অসন্তোষ দেখা গেছে। বিগত কয়েক মাসে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে খরচ সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষেরা। যদিও সরকারি হিসাবে দেখা যাচ্ছে খাদ্যে মূল্যস্ফীতি গত পাঁচ বছর ধরে গড়ে সাড়ে ৫ শতাংশের কাছাকাছি আছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী খাদ্য মূল্যস্ফীতির যে বার্ষিক হার তার সঙ্গে বাজারে খাদ্যপণ্যের দামের ওঠানামা মেলে না। ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে ২০২১-২২ অর্থবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল গড়ে সাড়ে পাঁচ শতাংশের কিছুটা বেশি (৫.৬৬%)। অর্থাৎ, ধারাবাহিকভাবে মূল্যস্ফীতি পাঁচ শতাংশের ওপরে থাকা মানে হচ্ছে, ২০১৬ সালে যে খাদ্যপণ্য কিনতে ১০০ টাকা খরচ করতে হতো, ২০১৭ সালে সেই একই পণ্য কিনতে ১০৫ টাকার বেশি খরচ করতে হয়েছে।