সৌদি থেকে নারী শ্রমিকদের লাশ আসার সংখ্যা বাড়ছে
বিবিসি বাংলা অনলাইন | উইমেননিউজ২৪প্রকাশিত : ০৪:১৯ পিএম, ৩০ অক্টোবর ২০১৯ বুধবার
সৌদি আরবে গৃহকর্মি হিসেবে যাওয়া বাংলাদেশের নারী শ্রমিকদের দেশে ফেরার প্রবণতা বাড়ছে। একই সঙ্গে বাড়ছে তাদের লাশ ফেরত আসার সংখ্যা।
অভিবাসন নিয়ে কাজ করে এমন একটি বেসরকারি সংস্থা বলেছে, সেখানে ধর্ষণসহ নানা ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে এবছর ৯০০ জনের মতো বাংলাদেশী নারী গৃহকর্মি দেশে ফেরত এসেছে।
সংস্থাটি আরও বলেছে, সাম্প্রতিক সময়ে নারী শ্রমিকদের মৃতদেহ দেশে আসার সংখ্যাও বেড়েছে। এই বিষয়টিকে বেশি উদ্বেগজনক বলে বলা হচ্ছে।
ফেরত আসা নারী শ্রমিকরা ধর্ষণসহ নানাভাবে নির্যাতিত হওয়ার অভিযোগ করছেন।
সরকারি কর্মকর্তারাও বলছেন, এসব অভিযোগের কিছুটা সত্যতা আছে। কিন্তু এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার কতটা কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে-এই প্রশ্ন অনেকে তুলছেন।
এ বছর সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশী নারী গৃহকর্মির ৪৮ জনের মৃতদেহ দেশে আনা হয়। তাদের মধ্যে ২০ জনই সৌদি আরবে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আত্মহত্যা করেছেন।
বেসরকারি সংস্থা ব্রাকের অভিভাসন কর্মসূচির কাছ থেকে এই পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে।
সংস্থাটি বলেছে, সৌদি আরবে গৃহকর্মির কাজ করতে গিয়ে নির্যাতনের কারণে বাংলাদেশী নারীদের মৃত্যুর ঘটনাগুলোর কোন বিচার হচ্ছে না।
খুলনার খালিসপুর এলাকা থেকে সালমা বেগম বলেন, সৌদি আরবে নির্যতনের কারণে তার ছোট বোনের মৃত্যু হয়েছে। কোন বিচার তারা চাইতেই পারেননি। মৃতদেহও পেয়েছেন ঘটনার অনেক পরে।
তিনি বলেন, "নির্যাতনে কারণে আমার ছোট বোন সৌদিতে একটা পরিবারের কাছ থেকে পালিয়ে থানায় গিয়েছিল। কিন্তু পরিবারটি থানা থেকে ফেরত নিয়ে আবার নির্যাতন চালিয়েছিল।তখন তার মৃত্যু হয় বলে আমরা জানতে পেরেছি।"
তিনি আরও বলেন, "আমার বোনের মৃত্যু হয়েছে মার্চের ৪ তারিখে। কিন্তু আমরা মৃতদেহ পেয়েছি গত মাসের ২০ তারিখে। যদিও হৃদরোগে মৃত্যু হয়েছে বলে আমাদের সার্টিফিকেট দিয়েছে, কিন্তু মাথার পিছনটা ছিল ভাঙা এবং বিভৎস। নির্যাতনের চিহ্ন ছিল শরীরেও।"
সৌদি আরবে একজন গৃহকর্মিকে নিয়ে যাওয়ার পর একটি পরিবার থেকে আরেকটি পরিবারের কাছে বিক্রি করে দেয়ার জন্য মক্তব নামের কিছু প্রতিষ্ঠানও আছে।
এমন বিক্রির শিকার বাংলাদেশের প্রত্যন্ত একটি এলাকার ২৬ বছরের একজন নারী। স্বামী এবং এক শিশু সন্তান দেশে রেখে ভাগ্য বদলের জন্য সৌদি আরবে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য বাড়ির দুই তলা হতে লাফ দিয়েছিলেন।
মেরুদন্ডের হাড় ভেঙে পঙ্গু হলেও তিনি অন্তত জীবনটা নিয়ে দেশে ফিরতে পেরেছেন।
"সৌদিতে যাওয়ার পর এক পরিবারে থাকলাম ৭ মাস। সেখানে প্রতিদিন মারধোর এবং নির্যাতন চলে। আর বেতন চাইলে নির্যাতন আরও বেড়ে যায়। এক পর্যায়ে ঐ পরিবার আমাকে মক্তবের মাধ্যমে আরেকটা পরিবারের কাছে বিক্রি করে দেয়। সেখান থেকে পালানোর জন্য ঐ বাড়ির দুই তলার জানালা দিয়া বাইরে লাফ দিয়েছিলাম। তখন রাস্তার লোক আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।"
"আমি হাসপাতালে দুই মাস ছিলাম। সেখান থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসের সেভ হোমে চারমাস থাকার পর দেশে ফিরছি।"
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেকজন নারী বলেন, কয়েকদিন আগে ১৮ জন নারীর সাথে তিনি ফিরেছেন। ধর্ষণসহ নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়ে তারা পালিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের সেন্টারে দুই মাস ছিলেন আরও দুইশ জন বাংলাদেশী নারীর সাথে। তাদের পর্যায়ক্রমে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
বাংলাদেশ নারী শ্রমিক কেন্দ্র মধ্যপ্রাচ্যে অভিবাসন শ্রমিকদের অধিকার নিয়ে কাজ করে, এই সংগঠনের সুমাইয়া ইসলাম বলছিলেন, সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশের নারী শ্রমিকদের ফেরত আসার মিছিল যে থামছে না, সে ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
সৌদি আরবে দীর্ঘ সময় বাংলাদেশের শ্রমবাজার বন্ধ থাকার পর ২০১৫ সালে নারী গৃহকর্মি পাঠানোর শর্তে সেই বাজার খুলেছিল।
সে সময়ের চুক্তির পর চার বছরে প্রায় তিন লাখ গৃহকর্মি সৌদি আরবে গেছে। এর মধ্যে আট হাজারের মতো ফেরত এসেছে বলে সরকারি তথ্যেই দেখা যাচ্ছে। ফেরত আসার সংখ্যাটা বেশি নয় বলে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা যুক্তি হিসেবে তুলে ধরছেন।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদিতে ২০ লাখের বেশি পুরুষ শ্রমিক আছে। তাদের বিষয়টি সরকার বিবেচনায় রাখছে। এছাড়া পুরুষ শ্রমিকদের যাওয়া অব্যাহত আছে। এই শ্রমবাজার আবার বন্ধ হোক সেটা বাংলাদেশ চায় না বলে তারা মনে করছেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সৈয়দা সাবিহা বারী বলছিলেন, সৌদি আরবে নারী গৃহকর্মি পাঠানো অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে সরকার কোন সমস্য দেখছে না।
"আমরা যে দৃষ্টিকোণ থেকে পাঠাচ্ছি, সেই দৃষ্টিকোণ থেকে ফেরত আসার কথা না। কিন্তু তারা বিদ্রোহ করে ফেরত আসছে।"
কিন্তু নির্যাতন সম্পর্কিত নানা অভিযোগের ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে এই কর্মকর্তা বলেছেন, "এটা কিছুটা ঠিক, তবে সম্পূর্ণ ঠিক সেটা আমি বলবো না।"
তবে তিনি বলেছেন, এসব অভিযোগের ব্যাপারে বিভিন্ন সময় তারা সৌদি কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেছেন।
- হাম ও উপসর্গে একদিনে আরও ৪ মৃত্যু
- ৬ নবজাতকের মৃত্যুর দায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
- ‘বেগম’ সম্পাদক নূরজাহান বেগমের জন্মদিন আজ
- যেসব নতুন নিয়ম দেখা যাবে এবারের বিশ্বকাপে
- ১৪ বছরের অগাস্টিনার হত্যায় ক্ষোভে ফুঁসছে আর্জেন্টিনা
- পিতা-মাতার সুরক্ষা আইন: বাবা-মায়ের ভরসা নাকি কাগুজে অধিকার?
- কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় ৪ বাংলাদেশি আহত
- রামিসা ধ*র্ষণ-হত্যা মামলার রায় ৭ জুন
- শুনানিতে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্নার উদ্ভট আচরণ, পরে কান্না
- রামিসা হত্যা মামলা: সোহেল-স্বপ্নার ফাঁসি দাবি রাষ্ট্রপক্ষের
- কারামুক্ত হয়ে সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আইভী
- সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ: ১০ বছর পর বাংলাদেশ-ভারত ফাইনাল
- বরিশাল জাদুঘর: অবহেলায় ঝুঁকিতে দুই শতকের ঐতিহ্য
- অস্বাস্থ্যকর ঢাকার বাতাস, দূষণ তালিকায় ১১
- যেসব জেলায় ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে
- মায়ের মরদেহে পচন, যুগ্ম-সচিব ছেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে
- নারীদের টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে নিগার-তৃষ্ণার উন্নতি
- নিলামে উঠছে পেলের প্রথম বিশ্বকাপ জার্সি
- এবার বিশ্ববাজারে কমেছে স্বর্ণের দাম
- ইউএনজিএ নির্বাচনে জয় ১৭ কোটি বাংলাদেশির: শামা
- হায় জীবন, মায়ের মরদেহের পাশে পচে যায় মানবিকতা!
- রামিসা হত্যা মামলা: আত্মপক্ষ সমর্থন শেষ, যুক্তিতর্ক কাল
- নারী-শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে শিগগিরই দেশব্যাপী কর্মসূচি
- ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে
- এক মামলায় জামিন পেলেন দীপু মনি, ছয়টিতে রুল
- সাগরিকার শেষ সময়ের গোলে সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ
- রামিসা হত্যা মামলা: সোহেল-স্বপ্নার ফাঁসি দাবি রাষ্ট্রপক্ষের
- মিরপুরের বৃদ্ধার মৃত্যু: তদন্ত কমিটি চেয়ে রিট
- খানজাহান আলী (রহ:) মাজারের দিঘির কুমিরটি সরিয়ে নেয়া হবে
- শুনানিতে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্নার উদ্ভট আচরণ, পরে কান্না

