ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২২, এপ্রিল ২০২১ ১৭:১৭:৪১ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণেই করোনার দ্বিতীয় ঢেউ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশে পুরুষের চেয়ে নারীর গড় আয়ু বেশি ১১ কোটি টাকা প্রণোদনা পাচ্ছেন ২৬৭৯ নার্স ভারতে একদিনে ৩ লাখ ১৬ হাজার শনাক্তে ফের বিশ্ব রেকর্ড বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ছাড়াল ৩০ লাখ ৭১ হাজার

অনলাইনে বন্ধুদের যৌন নির্যাতনের শিকার ৩৬% মেয়েশিশু

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৩:৫৭ পিএম, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১ শনিবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

অনলাইনে ৩৬ শতাংশের বেশি মেয়েশিশু বন্ধুদের দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। ২৭ শতাংশের বেশি মেয়েশিশু পরিচিত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ও আত্মীয় এবং ১৮ শতাংশ অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। ঢাকা ও সাতক্ষীরায় ১৭৮ শিশুর ওপর বেসরকারি সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) পরিচালিত এক জরিপ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

শুক্রবার 'অনলাইনে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন প্রতিরোধে পরিস্থিতি বিশ্নেষণ ও আইনি পর্যালোচনা' শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়।

ভার্চুয়াল সভায় উপস্থাপিত জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, জরিপে অংশ নেওয়া শিশুদের মধ্যে ৮২ জন ছেলে ও ৯৬ জন মেয়েশিশু ছিল। ৮ শতাংশের বেশি মেয়েশিশু অনলাইনে যৌন শোষণ, হয়রানি এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছে। সাইবার বুলিং ও যৌন আবেদনমূলক কনটেন্টের মুখোমুখি হয়েছে প্রায় ৮ শতাংশ শিশু। ২৩ শতাংশ মেয়েশিশু যৌন কনটেন্টের মুখোমুখি হয়েছে। ৪৬ শতাংশ অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব পেয়েছে।

সভায় বলা হয়, করোনাকালে শিশুদের দিনের অধিকাংশ সময় কাটাতে হচ্ছে অনলাইন স্কুলে। হোমওয়ার্ক, খেলাধুলা বা বিনোদনের ব্যবস্থা হয়ে পড়েছে অনলাইনভিত্তিক। ফলে শিশুরা আরও বেশি হয়রানি বা নির্যাতনের শিকার হচ্ছে বা ঝুঁকিতে পড়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, শিশু-কিশোরদের ডিজিটাল ডিভাইস থেকে দূরে সরিয়ে নয়; বরং প্যারেন্টাইল গাইডলাইন ব্যবহার করে তাদের ডিজিটাল অপরাধ থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য আরোমা দত্ত বলেন, কভিড ১৯ শিশু-কিশোরদের মনোজগতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তাই অনলাইন মাধ্যমে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতের জন্য সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ বিশেষ করে আইনের প্রয়োগ, ডাটাবেজ সংরক্ষণ, সমন্বয় সাধন জরুরি।

ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ইসপাব) প্রেসিডেন্ট এম এ হাকিম বলেন, বিশ্বজুড়ে এখন ৫০ থেকে ১২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাজার রয়েছে পর্নোগ্রাফির। ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে তা অবৈধ মাদক ব্যবসার বাজারের কাছাকাছি পৌঁছে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সচেতনতা বৃদ্ধি ও সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এখন বিটিআরসি সাইবার সচেতনতা ইউনিট ও সাইবার ৯৯৯ হেল্পলাইন চালু করতে পারে। তিনি জানান, সরকারের নির্দেশে ইসপাব বিনামূল্যে প্যারেন্টাল নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা রাখলেও এখন পর্যন্ত কোনো অভিভাবক তাদের কাছে সহায়তা চাইতে আসেননি।

জাতিসংঘ উন্নয়ন সংস্থা হিউম্যান রাইটস প্রোগ্রামের প্রধান কারিগরি উপদেষ্টা অ্যান্ডরু ম্যাকগ্রেগর বলেন, প্রযুক্তির বিকাশে ইন্টারনেট বড় আবিস্কার হলেও কিছু মানুষ এর অপব্যবহারের মাধ্যমে শিশুদের যৌন নির্যাতন করছে, প্রতারণা করছে। ঘটনা প্রতিকারে আইনের প্রয়োগ ও সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

আসকের নির্বাহী পরিচালক মনোয়ার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল হক সুপন, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় আইন কমিশনের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ (শিশু অধিকার আইনবিষয়ক ফোকাল পারসন) ফারজানা হোসাইন, ইনসিডিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এ কে এম মাসুদ আলী, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের নির্বাহী পরিচালক রোকসানা সুলতানা, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের পরিচালক (কর্মসূচি) নাসিমা আক্তার জলি, লালমাটিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ও ব্র্যাকের জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি ইউনিটের জেন্ডার বিশেষজ্ঞ নবকুমার দত্ত।

-জেডসি