ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০২, ডিসেম্বর ২০২১ ৩:৫৪:১২ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ভারত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর সিদ্ধান্ত স্থগিত ব্রাজিলে করোনার নতুন ধরন ‘ওমিক্রন’ শনাক্ত ২৩ দেশে ছড়িয়েছে ওমিক্রন,৭০ দেশের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা কাল শুরু এক দিনে করোনায় শনাক্ত ২৮২, মৃত্যু ২

আদিবাসী কোটায় অ-আদিবাসী শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৮:২০ পিএম, ২৪ নভেম্বর ২০২১ বুধবার

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে টেস্ট থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেন বাংলাদেশ  চট্টগ্রামপ্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) এবং রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) এর ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষে ভর্তির সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে আদিবাসী কোটা ও রাখাইন কোটায় ভর্তির মেধা তালিকায় অ-আদিবাসী শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছে। এসব শিক্ষার্থীর ভর্তি বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে।

বুধবার ‘সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন’র পক্ষ থেকে সালেহ আহমেদ স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।  বিবৃতিতে সংগঠনটির পক্ষে সংহতি প্রকাশ করে ২৫ জন স্বাক্ষর করেছেন।

বার্তায় বলা হয়েছে, তিন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার এই ফলাফলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ও আদিবাসী কোটায় অ-আদিবাসী শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের দাবি জানাচ্ছি। এরআগেও ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ও বিডিএসভর্তিতেও আদিবাসী কোটায় অ-আদিবাসী শিক্ষার্থী ভর্তি বন্ধের দাবি জানানো হয়। তিনপ্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ১ম বর্ষ/লেভেল-১ এর সমন্বিত ভর্তির বিজ্ঞপ্তিতে আদিবাসী কোটায় মোট ১৮টি এবং চুয়েটেরাখাইন সম্প্রদায় কোটায় ১টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে। আদিবাসী কোটায়চুয়েট এ ১০টি, কুয়েট এ ৪টি এবং রুয়েট এ ৪টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে। সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, আদিবাসী কোটায় সংরক্ষিত ১৮টি আসনের বিপরীতে আদিবাসী কোটায় মোট ১১ জন এবং রাখাইন সম্প্রদায় কোটায় ১১ জন মেধা তালিকায় এসেছে। ভর্তি পরীক্ষারফলাফলে “ক” গ্রুপে ৩৭ জন ও “খ” গ্রুপে ৫ জনের মেধা তালিকা প্রকাশ হয়েছে। ফলাফলে “ক” গ্রুপে ৩৭ জনের মধ্যে ১০ জন এবং “খ” গ্রুপে ৫ জনের মধ্যে ১ জন অ-আদিবাসী শিক্ষার্থী আদিবাসী কোটার মেধা তালিকায় রয়েছে।

এতে আরো বলা হয়েছে, কোটার মেধা তালিকায় স্থানপ্রাপ্তদের মধ্যে “ক” গ্রুপে মেধাক্রম ১-১৮ পর্যন্ত ও “খ” গ্রুপে মেধাক্রম ১-৫ পর্যন্ত ভর্তিচ্ছু প্রার্থীদের আগামী ৫ ডিসেম্বর ২০২১ তারিখে ভর্তির জন্য সনদপত্র জমা দিয়ে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। এতে দেখা যাচ্ছে আদিবাসী কোটায় অ-আদিবাসী শিক্ষার্থীরাও ভর্তি রসুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। তা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। আদিবাসী কোটায় ভর্তির জন্য মেধা তালিকায় স্থানপ্রাপ্ত অ-আদিবাসী ভর্তিচ্ছু প্রার্থীরাহচ্ছে, “ক” গ্রুপে ১১তম সাবিকুননাহারনিতি (রোল-৭৬৪৭৮), ১২তম জয় মিত্র (রোল-৭৬২২১), ১৪তম মো. আল গালিব (রোল-৭০৭৩৯), ১৯তম মো. রাফায়েল সিয়াম (রোল-৭৬৯৮৯), ২১তম মো. জাহিদ আলম নোমান (রোল-৭৫৬৮৯), ২৩ তম প্রতিমা দে ইমু (রোল-৫০৯৫৬), ৩২তম মো.আশরাফুল কবির আরিফ (রোল-৬২৫১৮), ৩৩তম রনি সরকার (রোল-৬৬০৭৩), ৩৪তম কারিনসাফানা (রোল-৫৯২৬৩), ৩৭তম মো. নাজমুস সাকিব (রোল-৫৬২৭৯) এবং “খ” গ্রুপে ৪র্থ কারিনসাফানা (রোল-৫৯২৬৩)। রাখাইন সম্প্রদায়ের কোটায় “ক” গ্রুপে ১২ জনের মধ্যে ১১ জনই এবং “খ” গ্রুপে ৩ জনের ২ জনই রাখাইন সম্প্রদায়ের বাইরের অর্থাৎ বাঙালি শিক্ষার্থী। “ক” গ্রুপে ১ম ইমরান হোসাইন (রোল-৬২৪১৭), ২য় মো. শাহরিয়ার হাসান তালুকদার (রোল-৭২৪১৮), ৩য় ফারিহা ফেরদৌস নেহা (রোল-৭৬৭৭১), ৪র্থ ফারিয়া আহম্মেদ ঐশি (রোল-৭২৯৩৯), ৬ষ্ঠ খান শাহারিয়ার আহমেদ সেতু (রোল-৬৫৮১৭), ৭ম মো. শাহরিয়ার ইমন (রোল- ৭৬৮৫৭), ৮ম মো. এরফানুল হক (রোল-৬৩২৪৯), ৯ম এসএম রাফিদ রহমান (রোল-৬১১৩০), ১০ম মো. তামেজুল হাবিব (রোল-৭৮৭৭৫), ১১তম মো. আবরার শাহরিয়ার তানহা (রোল-৭৯১৬৮)। “খ” গ্রুপে ১ম মো. আবরার শাহরিয়ার তানহা (রোল-৭৯১৬৮), ৩য় মো. তামেজুল হাবিব (রোল-৭৮৭৭৫)। এ সকল শিক্ষার্থীর কেউই বাংলাদেশ সরকারের গেজেটভুক্ত ৫০টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর (আদিবাসীজাতিসত্তার) সদস্য নয়।

অবিলম্বে এসকল রোলধারী অ-আদিবাসী শিক্ষার্থীদেরকে ভর্তির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য নির্বাচিত করে তালিকা প্রকাশ করার জোর দাবি জানিয়ে বলা বার্তায় বলা হয়, আদিবাসী কোটায় অ-আদিবাসীরা কীভাবে স্থান পায়, তার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। আদিবাসী কোটায় শুধু আদিবাসী শিক্ষার্থীদেরকেই নির্বাচন করতে হবে। আদিবাসী কোটায় নির্বাচিত অ-আদিবাসী শিক্ষার্থীদের ফলাফল বাতিল করে সেসব আসনে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের নির্বাচন করে পুনরায় ফলাফল প্রকাশ করতে হবে। এই অনিয়ম বন্ধ হওয়া জরুরি।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকরেন:
১. অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা
২. পঙ্কজ ভট্টাচার্য, সভাপতি, ঐক্য ন্যাপ
৩. রামেন্দু মজুমদার, প্রেসিডিয়ামসদস্য, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন
৪. ডা. সারওয়ার আলী, ট্রাস্টি, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর
৫. ডা. ফওজিয়া মোসলেম, সভাপতি, মহিলা পরিষদ
৬. ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার, সভাপতি, কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি
৭. খুশী কবির, মানবাধিকারকর্মী
৮. রোকেয়া কবির, উন্নয়নকর্মী
৯. এস.এম.এসবুর, সভাপতি, বাংলাদেশ কৃষকসমিতি
১০. অ্যাডভোকেট রানা দাশ গুপ্ত, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ
১১. এম. এম. আকাশ, অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
১২. রোবায়েত ফেরদৌস, অধ্যাপক, ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়
১৩. সালেহ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন
১৪. অ্যাডভোকেট পারভেজ হাসেম, আইনজীবি, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট
১৫. ডা. লেলিন চৌধুরী, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ
১৬. লতিফুল বারি হামিম, সাবেক ছাত্র নেতা
১৭. সানোয়ার হোসেন সামছি, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন
১৮. জহিরুল ইসলাম জহির, সাবেক সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় খেলাঘর
১৯. দীপয়ন খীসা, তথ্য ও প্রচারসম্পাদক, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম
২০. আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণসম্পাদক, ইমারত নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন বাংলাদেশ (ইনসাব)
২১. এ কে আজাদ, সংস্কৃতিকর্মী
২২. অলক দাস গুপ্ত, সংস্কৃতিকর্মী
২৩. বিভ‚তীভূষণ মাহাতো, সদস্য, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, কেন্দ্রীয়কমিটি
২৪. কাজী আব্দুল মোতালেবজুয়েল, সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্র মৈত্রী
২৫. গৌতম শীল, সভাপতি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (বিসিএল)