ঢাকা, সোমবার ১৫, জুন ২০২৬ ১:১৪:৩১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
আজ রাতে জার্মানির মুখোমুখি হচ্ছে ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র কুরাসাও নারীদের জন্য ১৫০০ বেডের দুটি হাসপাতাল হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু কনোলির বিধ্বংসী ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার নাটকীয় জয় এইচএসসি পরীক্ষায়ও থাকছে সিসিটিভির নজরদারি মিরপুর স্টেডিয়ামে খেলা উপভোগ করছেন জাইমা রহমান বাজেটে সরকার সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে শিক্ষাকে: শিক্ষামন্ত্রী

কনোলির বিধ্বংসী ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার নাটকীয় জয়

খেলাধুলা ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৯:০০ পিএম, ১৪ জুন ২০২৬ রবিবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে বার বার দলকে লড়াইয়ে ফেরালেন শরিফুল ইসলাম। কিন্তু পেরে উঠলেন না শেষ পর্যন্ত। পারতে দিলেন না কুপার কনোলি। এই ওপেনারের বিধ্বংসী ইনিংসে সহজ জয়ের পথেই ছিল অস্ট্রেলিয়া। কিন্তু শেষ দিকে দ্রুত উইকেট হারায় তারা। নিরুত্তাপ ম্যাচে ফেরে রোমাঞ্চ। সেই রোমাঞ্চের শেষ হাসি হেসে নাটকীয় জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়িয়েছে সফরকারীরা।

মিরপুরে রোববার তিন ম্যাচ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে অজিদের জয় ১ উইকেটে। ৩ বল বাকি থাকতে বাংলাদেশের ২৭৪ রান পেরিয়ে যায় তারা।

১০ ওভারে ৪৮ রানে একাই ৬ উইকেট নিয়েছেন শরিফুল। ওয়ানডেতে এই প্রথম পাঁচ উইকেটের স্বাদ পেলেন বাঁহাতি এই পেসার।

তবে ম্যাচের আসল নায়ক কনোলি। ওপেনে নেমে এই ব্যাটার ১৩৪ বলে ১৪৯ রান করে যখন নবম ব্যাটার হিসেবে আউট হন দলের জয়ের জন্য তখন লাগে ৪ রান।

শেষ ওভারে তাদের দরকার ছিল ৩, বাংলাদেশের ১ উইকেট। তাসকিনের প্রথম বলে সিঙ্গেল নেন রিলেই মেরেডিথ। এক বল পর চার মেরে সব নাটকের অবসান ঘটান জাম্পা।

কনোলি ও অলিভার পিকের ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে অনায়াস জয়ের পথে ছিল অস্ট্রেলিয়া। তাসকিনকে টানা তিন ছক্কা মারেন কনোলি। পিকের সঙ্গে তার জুটি পঞ্চাশ স্পর্শ করে ৫৩ বলে।

৪৫ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার রান ৫ উইকেটে ২৬৬। এরপরই নাটকীয়তার শুরু।

পরপর দুই বলে অলিভার পিক ও জেভিয়ার বার্টলেটকে ফিরিয়ে দেন শরিফুল। পরের ওভারে ডোয়ার্শাসের ফিরতি ক্যাচ ছাড়েন মোস্তাফিজ। নিজের শেষ ওভারে ডোয়ার্শাসকে ফিরিয়ে ৬ উইকেট পূর্ণ করেন শরিফুল। একই ওভারে পেতে আরেকটি, কিন্তু স্লিপে জ্যাম্পার ক‍্যাচ নিতে পারেননি তানজিদ হাসান।

সিঙ্গেল না নিয়ে দায়িত্ব নিজের কাঁধে নিতে চেয়েছিলেন কনোলি। কিন্তু পারেননি। মুস্তাফিজের বলে ইনসাইড এজ বোল্ড হন তিনি।

১৩৪ বলে ছয় ছক্কা ও ১৩ চারে ১৪৯ রানের ইনিংসটি সাজান তিনি।

রান তাড়ায় আগ্রাসী শুরু করে অস্ট্রেলিয়া। ৪ ওভারে তারা তোলে ৩৮ রান। বোলারে বদল আনেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। কাজে দেয় তা। সিরিজে প্রথমবার সুযোগ পাওয়া শরিফুল বল হাতে নিয়েই এনে দেন জোড়া উইকেট।

জশ ইংলিস ১২ বলে ২১ রান করে ক্যাচ দেন মোসাদ্দেকের হাতে। এক বল পরই ম্যাট রেনশ হয়ে যান বোল্ড।

অ্যালেক্স কেয়ারিকে থিতু হতে দেননি আরেক পেসার তাসকিন আহমেদ। শর্ট কাভারে অবিশ্বাস্য ক্যাচ নেন সৌম্য সরকার।

অন্য প্রান্তে আস্থার সঙ্গে ব্যাটিং করেন কুপার কনোলি। ৫১ বলে তুলে নেন ফিফটি। মানৃাস লাবুশেনের সঙ্গে তার জুটি ভাঙেন শরিফুল। এবার স্লিপ দিয়ে বের হতে যাওয়া বল ঝাঁপিয়ে এক হাত দিয়ে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন নুরুল হাসান সোহান। লিটন দাস ফিল্ডিংয়ে না নামায় কিপিং করেন তিনি। ভাঙে ৭৭ বল স্থায়ী ৬৪ রানের জুটি।

এরপর ক্যামেরণ গ্রিনকে পাশে পান কনোলি। জয় থেকে দূরে সরে যেতে থাকে বাংলাদেশ। বিপজ্জনক হয়ে উঠছিলেন গ্রিন। মেহেদী হাসানকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে অঅউট হন তিনি ৩৫ বলে ২৭ রান করে। ভেঙে যায় কনোলির সঙ্গে তার ৬৮ রানের জুটি।

শুরু থেকে দারুণ ব‍্যাটিংয়ে ওয়ানডেতে কুপার নিজের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন ৮৭ বলে। সেঞ্চুরির পরপরই একটা সুযোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু ফিরতি ক্যাচ নিতে পারেননি তানভির ইসলাম।

এরপর অলিভার পিক এসে দ্রুত রান তোলার দিকে মনোযোগ দেন। পিকের আউটের পরই সেই নাটকীয়তার শুরু।

এর আগে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে তোলে ২৭৪ রান। শেষ ৫ ওভারে কেবল ৩২ রান তুলতে পারে টাইগাররা।

৮৮ বলে ৮ চারে ৮৩ রানের ইনিংস উপহার দেন হৃদয়। লিটন ৭৮ বলে ৪টি চার ও ২ ছক্কায় ৫৮ রানে এবং মোসাদ্দেক ৫১ বলে ৫টি চার ও ১ ছক্কায় ৫৬ রানে অপরাজিত থাকেন।

প্রথম ওভারে সৌম্য, আর ৬১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ বিপদেই পড়ে গিয়েছিল। সেখান থেকে হৃদয়–লিটন আর মোসাদ্দেকের ব্যাটে ঘুঁরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ওভারেই সাজঘরে ফেরেন সৌম্য সরকার। জাভিয়ের বার্টলেটের ফোর্থা স্টাম্পে করা হাফ-ভলিতে ড্রাইভ নিয়েছিলেন সৌম্য। বল ইনসাইড এজ হয়ে স্টাম্প ভেঙে দেয়।

তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্তর ফিফটি জুটিতে শুরুর ধাক্কা সামলে না উঠেতেই পরপরই ফেরেন দুজনই। মিড-অনে তানজিদ আউট হন ২০ বলে ১৯ রান করে। বাজে এক শট খেলতে গিয়ে বোল্ড হন ৫০ বলে ২৪ রান করা শান্ত।

এরপর দলকে টেনে নেন লিটন ও হৃদয়। বেশ কিছু সময় লিটন রান নিচ্ছিলেন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। মাঝে মধ্যে ফিজিও এসে দিয়ে যাচ্ছিলেন প্রাথমিক চিকিৎসা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পেরে না উঠে চোট নিয়েই ফিজিওর সঙ্গে মাঠ ছাড়েন লিটন।

এসময় ৭৩ বলে চারটি চার ও একটি ছক্কায় তার রান ৪৮। এর আগে তৃতীয় উইকেটে তাওহীদ হৃদয়ের সঙ্গে ১০৭ বলে ৯২ রানের জুটি উপহার দেন এই কিপার-ব্যাটার।

এরপর মোসাদ্দেকের সঙ্গে জুটি জমে যায় হৃদয়ের। ৬২ বলে স্পর্শ করেন ফিফটি। সেঞ্চুরির সুবাস পেতে পেতে তিনি আউট হন ৪৬তম ওভারে বেন ডোয়ার্শাসকে হাঁকাতে গিয়ে। হৃদয়ের বিদায়ে ভাঙে ৮৩ বলে ৯৩ রানের জুটি।

হৃদয়ের মতোই ডোয়ার্শাসকে হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে আউট হন সিরিজে প্রথমবার সুযোগ পাওয়া মেহেদি হাসান। তার অবদান ৯ বলে ৩ রান।

মেহেদি ফেরার পর উইকেটে ফিরে লিটন ফিফটি স্পর্শ করেন ৭৫ বলে। মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১১ বছর ও ২৯ ইনিংসের ওয়ানডেতে এটা তার প্রথম ফিফটি। মোসাদ্দেক ফিফটি করেন ৪৩ বলে।

বার্টলেট ও ডোয়ার্শাস নেন ২টি করে উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৭৪/৪ (সৌম্য ২, তানজিদ ১৯, শান্ত ২৪, লিটন ৫৮*, হৃদয় ৮৩, মোসাদ্দেক ৫৬*, মেহেদি ৩; বার্টলেট ৮-০-৪৭-২, মেরেডিথ ৭-০-৪১-০, ডোয়ার্শাস ৮-০-৫৫-১, গ্রিন ৬-২-১৮-০, রেনশ ৯-০-৪৪-২, জ্যাম্পা ১০-০-৪৮-০, লাবুশেন ২-০-১০-০)

অস্ট্রেলিয়া: ৪৯.৩ ওভারে ২৭৭/৯ (কনোলি ১৪৯, ইংলিস ২১, রেনশ ০, কেয়ারি ৮, লাবুশেন ২৯, গ্রিন ২৭, পিক ২৭, বার্টলেট ০, ডোয়ার্শাস ৪, জ্যাম্পা ৪*, মেরেডিথ ২*; তাসকিন ৭.৩-১-৫৯-১, মুস্তাফিজ ৯-০-৫৬-১, শরিফুল ১০-১-৪৮-৬, মেহেদি ১০-১-৩৭-১, তানভির ৭-০-৩৮-০, তানভির ৭-০-৩৮-০, মোসাদ্দেক ৬-০-৩৬-০)

ফল: অস্ট্রেলিয়া ১ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচ সেরা: কুপার কনোলি

সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী