ঢাকা, বুধবার ১৭, জুন ২০২৬ ২:২৮:৪০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
আজ রাতে লড়াকু সেনেগালের সামনে শক্তিধর ফ্রান্স আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিল ভুল নয়: স্বাস্থ্যমন্ত্রী রামিসা হত্যা: আসামিদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগের নির্দেশ বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই স্পেনকে রুখে দিয়ে কেপ ভার্দের ইতিহাস ঢাকার বাতাস আজও অস্বাস্থ্যকর, দূষণে শীর্ষে দিল্লি তোষামোদ নয়, সত্য তুলে ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে যাচ্ছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

গর্বের অশ্রুতে ভাসল ভোজিনহার কেপ ভার্দে

খেলাধুলা ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:০৮ পিএম, ১৬ জুন ২০২৬ মঙ্গলবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

আটলান্টা স্টেডিয়ামে শেষ বাঁশি বাজতেই ক্যামেরায় ধরা পড়ল কেপ ভার্দের গোলরক্ষক ভোজিনহার মুখ। ৪০ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ গোলকিপারের চোখ বেয়ে তখন গড়িয়ে পড়ছিল অশ্রু। স্পেনের মতো বিশ্বকাপ ফেভারিট দলের বিপক্ষে ড্র তো চাট্টিখানি কথা নয়- যা তার দেশের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্জন। আর সেই অর্জনের নায়ক ভোজিনহাই।

স্টেডিয়ামে হাজারো কেপ ভার্দে সমর্থক উল্লাসে ফেটে পড়েন। তারা ৯০ মিনিট ধরে নিরন্তর গান-বাজনা আর গলা ফাঁটিয়ে দলকে উজ্জীবিত করেছেন। ম্যাচ শেষ হতেই মাঠে খেলোয়াড়রা আনন্দে একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। মুহূর্তটির আবেগে ভেসে যান নিরপেক্ষ দর্শকরাও। 

ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে ভোজিনহা জীবনের সেরা পারফরম্যান্স উপহার দেন। সাতটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে তিনি নিশ্চিত করেন ঐতিহাসিক ক্লিন শিট। ম্যাচ শেষে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমি কেঁদেছি কারণ আমি আমার দাদু-দিদার সঙ্গে বড় হয়েছি। তারা কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। তারা আমার জীবনের সবকিছু ছিলেন। আর আমার মা-ও এখানে থাকতে পারেননি ভিসা সমস্যার কারণে। আমি চাইতাম তিনি এই মুহূর্তে থাকুন।” 

ভোজিনহা আরও যোগ করেন, “আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো ঐক্য। সবাই ভেবেছিল আমরা শুধু উপভোগ করতে এসেছি, কিন্তু আমরা জানি—আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এসেছি, দেশের জন্য লড়তে এসেছি।” 

৪০ বছর ১২ দিন বয়সে ভোজিনহা হয়ে গেলেন কোনো দেশের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচে অংশ নেওয়া সবচেয়ে প্রবীণ খেলোয়াড়। এর আগে কুরাসাওয়ের এলয় রুম এই রেকর্ড করেছিলেন মাত্র একদিন আগে। বিশ্বকাপে অভিষেকের সময় তার চেয়ে বয়সে বড় ছিলেন কেবল মিশরের এসসাম এল হাদারি। 

ভোজিনহার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল বেশ দেরিতে। ২৫ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবলে নামেন। স্লোভাকিয়া, অ্যাঙ্গোলা, মলদোভা, সাইপ্রাস ঘুরে এখন খেলছেন পর্তুগিজ দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব চাভেসে। 

কেপ ভার্দে পশ্চিম আফ্রিকার উপকূল থেকে প্রায় ৬০০ কিমি দূরে অবস্থিত ছোট দ্বীপপুঞ্জ। জনসংখ্যা মাত্র পাঁচ লাখের কিছু বেশি—বিশ্বকাপে খেলা সবচেয়ে ছোট দেশগুলোর একটি। 

স্পেনের আক্রমণ ঠেকাতে ভোজিনহার প্রতিটি সেভ স্টেডিয়ামে গোলের মতো উদযাপিত হয়েছে। ম্যাচ শেষে তার ইনস্টাগ্রাম অনুসারী ৫০ হাজার থেকে বেড়ে ১৫ লাখ ছাড়িয়েছে।

স্কটল্যান্ডের সাবেক উইঙ্গার প্যাট নেভিন বলেন, “ভোজিনহা এই ম্যাচকে আলোকিত করেছেন। ৪০ বছর বয়সে এমন পারফরম্যান্স অবিশ্বাস্য।”

আইটিভির লি ডিকসন যোগ করেন, “এটা অসাধারণ। স্পেন হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়লেও রাতটা কেপ ভার্দের।” 

স্পেনের বিপক্ষে কেপ ভার্দের ড্র শুধু একটি ফল নয়, বরং একটি জাতির স্বপ্নপূরণের প্রতীক। ভোজিনহার চোখের জল সেই ইতিহাসের সাক্ষী।