ঢাকা, শুক্রবার ৩০, জানুয়ারি ২০২৬ ২১:৫৮:৩৭ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
জরিপে চীনের উত্থান, আমেরিকার আধিপত্যে ভাটা রাজধানীর বনানীতে বহুতল ভবনে আগুন ইনোভিশন জরিপ: বিএনপি জোট এগিয়ে ৫২.৮০ শতাংশ ক্রিকেট: বিশ্বকাপ নিশ্চিতের পর স্কটল্যান্ডকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ আবারও ছাদখোলা বাসে চ্যাম্পিয়ন সাবিনারা জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের সহ-সভাপতি বাংলাদেশ

গাজীপুর শিশুপল্লীতে অন্যরকম ঈদ

গাজীপুর প্রতিনিধি | উইমেননিউজ২৪.কম

আপডেট: ০৮:৫৬ পিএম, ২০ জুন ২০১৮ বুধবার

কারও মা-বাবা নেই, কারও মা-বাবা আছে কিন্তু পরিবারে ছিল অবহেলিত, কেউবা স্বামীহারা-বিধবা। একটা সময় তারা সমাজের সুবিধাবঞ্চিত থাকলেও গাজীপুরের শ্রীপুরের শিশু ল্লী প্লাসের কল্যাণে এখন তাদের চোখে মুখে স্বপ্নের আবহ। শিশুপল্লী প্লাস তাদের ঈদ আনন্দের কোনো কমতি করেনি।

 

শিশুপল্লী প্লাস কর্তৃপক্ষ আয়োজিত দিনভর নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিভিন্ন রকমের খেলাধুলা, গান বাজনা ও নানা ধরনের বিনোদনের মধ্যে কেটেছে এতিম অনাথ শিশুদের ঈদের পুরোদিন। রাখা হয়েছিল বিশেষ খাবারের ব্যবস্থাও। শিশুপল্লী প্লাসে থাকা সকলকে দেয়া হয়েছে নতুন কাপড়।

 

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের টেংরা গ্রামে ১৯৮১ সালে বিট্রিশ নাগরিক পেট্রেসিয়া কার প্রায় ৫১ বিঘা জমির উপর এই শিশুপল্লী প্লাস গড়ে তুলেন। শুরু থেকে অনাথ শিশুদের আশ্রম হিসেবে গড়ে তুললেও এতে সমাজের অবহেলিত মায়েদেরও স্থান হয়। পরে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের প্রতিটি সদস্যকে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলা হয়। এ পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার সদস্যকে পুনর্বাসন করা হয়েছে এখানে। বর্তমানে শিশু পল্লীতে ১৪০ জন মা ও ২৭০ জন শিশু রয়েছে। অবহেলিত বিধায় ১০টি পরিবারও রয়েছে এখানে।

 

সবুজ-শ্যামল আম-কাঁঠাল গাছে ঘেরা সবুজের এই বেষ্টনীতে শিশু ও মায়েদের থাকার জন্য আলাদা আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষার জন্য একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। রয়েছে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও চিকিৎসা সেবার জন্য কেন্দ্র। শিশুপল্লীটি এখন একটি পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসেবে দাঁড়িয়েছে। শিশু ও মায়েদের ব্যবস্থাপনার জন্য রয়েছে প্রায় দেড় শতাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী। গত বছর শিশু পল্লী প্লাসের প্রতিষ্ঠাতা পেট্রেসিয়া কারকে মানবিক কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করেন।

 

ঈদের দিন দুপুরে কথা হয় ১৮ বছরের তরুণ হানিফের সঙ্গে। তিনি জানান, তার বয়স যখন চার বৎসর তখন ময়মনসিংহ থেকে হারিয়ে যান। পরে ২০০৪ সালে তার স্থান হয় এই শিশুপল্লীতে। মা-বাবা ছাড়া তার জীবনের অধিকাংশ ঈদ কেটেছে শিশুপল্লী প্লাসে। প্রথম প্রথম বাবা-মায়ের অভাব অনুভূত হলেও এখন এই আশ্রমে থাকা কর্মকর্তারাই এ অভাব পূরণ করছেন।

 

হানিফ সাভারের সিআরপিতে ফিজিওথেরাপিতে লেখাপড়া করছেন। দীর্ঘদিনের স্মৃতি বিজরিত শিশুপল্লী প্লাসে থাকা সদস্যদের নিয়ে ঈদ উদযাপন করার জন্য এখানে এসেছেন। ঈদের দিন সকাল থেকেই সবার সঙ্গে অনেক আনন্দ করছেন। তবে এখনও স্বজনদের ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন রয়েছে তার।

 

শিশুপল্লী ঘুরে দেখা গেছে, রং-বেরংয়ের ঈদের নতুন জামা-কাপড় পরা কোমলমতি ছোট ছোট শিশুরা বেলুন ও বিভিন্ন খেলনা নিয়ে খেলা করছে। শিশুদের চোখে মুখে ফুটে উঠেছে ঈদের আনন্দ। দুপুরের খাবারের জন্য বারবার ডেকেও তাদের পাওয়া যাচ্ছে না। যে যার মতো বিভিন্ন ধরনের খেলায় মগ্ন।

 

পরিবারের উপার্জনক্ষম একমাত্র ব্যক্তি অসুস্থ হওয়ায় সংসারের পাঁচ সন্তান নিয়ে হাল ধরার কোন ব্যবস্থা না থাকায় রংপুরের আমেনা খাতুনের স্থান হয়েছে এই পুনর্বাসন কেন্দ্রে। নিজে বিভিন্ন বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ নিলেও তার সন্তানরা এই কেন্দ্রেই লেখাপড়া করছেন। ঈদের আনন্দের বিষয়ে তিনি জানান, ঈদের আগেই আমাদের নতুন নতুন কাপড় দেয়া হয়েছে। সকাল থেকেই চলছে নানা ধরনের বিনোদন। বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা তো রয়েছেই।

 

শিশুপল্লী প্লাসের কর্মকর্তা প্রদীপ রোজারিও জানান, বিভিন্ন উৎসবের দিনগুলোতে প্রতিষ্ঠাতা পেট্রেসিয়া কার নিজেই আশ্রিতদের সঙ্গে বিভিন্ন বিনোদনে শরীক হন। নিজের হাতে তাদের খাবারের ব্যবস্থা করেন। এবারের ঈদেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

 

তিনি আরও জানান, এই কেন্দ্রে আসা সবাই সমাজে বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। তবে বিভিন্ন উৎসবে তাদের আনন্দের কোনো ঘাটতি রাখা হয় না। এবার ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সবাইকে নতুন জামা-কাপড় দেয়া হয়। বিনোদনের জন্য বিভিন্ন ইভেন্ট ও বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।

 

শিশুপল্লী প্লাসের চেয়ারম্যান সৈয়দ শামসুল আলম চৌধুরী জানান, এখানে শুরু থেকে অনেক মা ও শিশুদের আশ্রয় দিয়ে স্বনির্ভর হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মের লোকজনের জন্য এখানে আলাদাভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করা হয়।