ঢাকা, সোমবার ০৩, আগস্ট ২০২৬ ২১:৪৬:৩৯ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর বরিশালে বালুভর্তি বস্তায় বিস্ফোরণ, নারী ও শিশুসহ দগ্ধ ৩ ইস্টার্ন ব্যাংকে ফ্রেশারদের চাকরির সুযোগ বিয়ে করছেন রোনালদো জুলাইজুড়ে সহিংসতার শিকার ২৯৯ নারী ও মেয়ে শিশু বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের বড় দরপতন পাঁচ জেলায় বন্যার শঙ্কা

চট্টগ্রামে ভয়াবহ গ্যাস সংকট: নিভেছে চুলা, বেড়েছে লোডশেডিং

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:১৮ এএম, ৩ আগস্ট ২০২৬ সোমবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বাসাবাড়িতে বেশিরভাগ সময়ই চুলা জ্বলেছে না। একই অবস্থা শিল্প-কারখানাতেও; ফলে কমেছে উৎপাদন। অন্যদিকে সিএনজি স্টেশনগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস পাচ্ছেন না চালকেরা। গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদনও কমেছে, ফলে বেড়েছে লোডশেডিং। সব মিলিয়ে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের জনজীবন, পরিবহন, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমে এসেছে স্থবিরতা।


কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্র জানায়, বর্তমানে চট্টগ্রামে গ্যাসের দৈনিক স্বাভাবিক চাহিদা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। সংকটের শুরুতে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছিল মাত্র ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি। কিন্তু আগস্টের শুরু থেকে সরবরাহ আরও কমে গেছে। ফলে আবাসিক ও শিল্প—সব খাতেই তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে।

সংকটের কারণে নগরীর হালিশহর, আগ্রাবাদ, চান্দগাঁও, চকবাজার, বাকলিয়া, পতেঙ্গাসহ অধিকাংশ এলাকায় ভোরের পর থেকেই গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যে নেমে আসে। অনেক পরিবারে দুপুরের খাবার রান্না করতে হচ্ছে বিকেলে কিংবা গভীর রাতে। অনেকে বাধ্য হয়ে প্রতিদিন হোটেল-রেস্তোরাঁর খাবারের ওপর নির্ভর করছেন। একই চিত্র সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনগুলোতেও। গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় স্টেশনগুলোর সামনে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে অটোরিকশা, মাইক্রোবাস ও অন্যান্য সিএনজিচালিত যানবাহনচালকদের। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও গ্যাস না পেয়েই ফিরতে হচ্ছে অনেককে।

নগরীর আসকার দিঘির পাড় এলাকার বাসিন্দা ইশরাত জাহান বলেন, এক সপ্তাহ ধরে পরিবারের খাবারের কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। সকালেই গ্যাস চলে যায়। দুপুরে রান্না করা সম্ভব হয় না। বাধ্য হয়ে রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনতে হচ্ছে। বড়রা বাইরে খাবার খেলেও ছোট শিশুদের নিয়মিত হোটেলের খাবার খাওয়ানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকি।

মইজ্জার টেক এলাকার অটোরিকশাচালক মোহাম্মদ ফরহাদ আলম বলেন, আগে ১০ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যেই গ্যাস নেওয়া যেত। এখন চার ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস পাওয়া যায় না। দিনের বেশির ভাগ সময় লাইনে কাটিয়ে দিলে যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হয় না। এতে মালিকের জমা তোলা এবং সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
গ্যাসের সংকটের বড় ধাক্কা লেগেছে শিল্প খাতে। কেজিডিসিএল সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানাসহ (সিইউএফএল) বিভিন্ন বড় শিল্প প্রতিষ্ঠানে গ্যাসের স্বল্পতার কারণে উৎপাদন ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। অনেক কারখানায় নির্ধারিত সক্ষমতার অর্ধেকেরও কম উৎপাদন হচ্ছে। এতে রপ্তানিমুখী শিল্প, ইস্পাত, টেক্সটাইল ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন খাত ক্ষতির মুখে পড়েছে।

আবার, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ না থাকায় উৎপাদন সক্ষমতা কমে গেছে। ফলে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক দিনগুলোতে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েছে। শিল্পাঞ্চলের পাশাপাশি আবাসিক এলাকাতেও দিনে প্রায় সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগ করছেন গ্রাহকেরা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনও স্বাভাবিক হবে না। এতে শিল্প উৎপাদন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও জনজীবনের ওপর দ্বিমুখী চাপ তৈরি হয়েছে। একদিকে যেমন গ্যাসের অভাবে কারখানাগুলো উৎপাদন কমাচ্ছে, অন্যদিকে বিদ্যুৎ ঘাটতির কারণে উৎপাদন কার্যক্রম আরও ব্যাহত হচ্ছে।