ঢাকা, শনিবার ১৬, জানুয়ারি ২০২১ ০:২২:১৮ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
দ্বিতীয় ধাপে আগামীকাল ৬০ পৌরসভায় ভোট আবারও বাড়লো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি দেশে ২৪ ঘন্টায় করোনায় আরও ১৩ মৃত্যু, শনাক্ত ৭৬২ ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্প: নিহত বেড়ে ৩৪, আহত ৬৩৭ বিশ্বজুড়ে করোনায় মৃত্যু ২০ লাখ ছাড়াল

নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৪:১৮ পিএম, ২৫ নভেম্বর ২০২০ বুধবার

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন আমরাই পারি জোটের নির্বাহী সমন্বয়কারী জিনাত আরা হক।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন আমরাই পারি জোটের নির্বাহী সমন্বয়কারী জিনাত আরা হক।

দেশব্যাপী নারী ও শিশু ধর্ষণ, সকল যৌন সহিংসতা এবং নির্যাতনের ঘটনা বন্ধের দাবীতে ‘আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট’ এবং ’নারী নিরাপত্তা জোট’ সংবাদ সম্মেলন করেছে। সম্মেলনে ৯ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।

গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অনলাইনের মাধ্যমে সভাপতিত্ব করেছেন আমরাই পারি পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট-এর কো-চেয়ারপারসন শাহীন আনাম এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন উপদেষ্টা মাহফুজা খানম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আমরাই পারি জোটের নির্বাহী সমন্বয়কারী জিনাত আরা হক।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে অনলাইনে এবং স্বশরীরে উপস্থিত ছিলেন নেট বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সারা খাতুন, প্রোজেক্ট ম্যানেজার আফসানা বিনতে আমিন, অক্সফামের জেন্ডার জাস্টিস এন্ড সোশ্যাল ইনক্লুশনের প্রোগ্রাম হেড মাহমুদা সুলতানা, প্রোগ্রাম কো অর্ডিনেটর মাহফুজা মালা, আমরাই পারি জাতীয় কমিটির পক্ষ থেকে এমবি আখতার, ফওজিয়া খন্দকার, সামিয়া আহমেদসহ অন্যান্যরা।

সংবাদ সম্মেলনে নির্যাতনের শিকার ঢাকার বাইরের চারজন নারীর পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ২০১৬ সালের ২৫ আগস্ট সিরাজগঞ্জে চলন্ত বাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার জাকিয়া সুলতানা রূপার ভাই, ২০২০ সালের ৯ মে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার ১৪ বছর বয়সী ধর্ষণ এবং হত্যার শিকার মারুফার মা ও ভাই, ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের নির্যাতন এবং হত্যার শিকার হওয়া স্কুলছাত্রী রিশার বাবা-মা এবং গত বছর ২৯ অক্টোবর ঢাকার আদাবরে ধর্ষণের শিকার ১৪ বছর বয়সী গৃহকর্মী কাকলীর মামা-মা উপস্থিত ছিলেন।

নির্যাতনের শিকার পরিবারের সদস্যরা ধর্ষণ এবং হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে প্রশাসন, পুলিশসহ সমাজের সকলের কাছে যে নিগ্রহের মুখোমুখি হয়েছেন তা তুলে ধরেন।

সভায় তাদের অনেকেই জানান, পুলিশ কি করে অভিযোগের বয়ান পালটে দেয় এবং বাধ্য করে ধর্ষণ বা হত্যাকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করতে। ফরেনসিক রিপোর্ট তৈরির সময়, সততা এবং দক্ষতা নিয়ে তারা বারবার অভিযোগ করেন।

রূপার ভাই জানান, উচ্চ আদালতে হত্যা এবং ক্ষতিপূরণের মামলাগুলো গুরুত্বহীন হয়ে পড়ছে।

সভায় সভাপতি শাহীন আনাম বলেন, বিচারহীনতার কারণে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার আসামীরা ছাড় পেয়ে যায়। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, নারী এবং শিশুর প্রতি যৌন সহিংসতায় জিরো টলারেন্স। সেই আঙ্গিকে আমাদের সবাইকে যার যার জায়গা থেক দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আজ উপস্থিত মিডিয়ার বন্ধুরা নির্যাতনের শিকার পরিবারগুলোর লোমহর্ষক অভিজ্ঞতা এবং বিচার না পাওয়ার কথা জেনেছেন। আমরা আশা করছি এসব তথ্য তারা পৌঁছে দিবেন জনগণের কাছে।

জিনাত আরা হক বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলি দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র একটি সংখ্যা হয়ে যায়। আর পরিবারের কাছে তা ব্যক্তিগত সমস্যা হয়ে দাড়ায়।  রাষ্ট্র, মিডিয়া কিংবা কোনো সংগঠনই ঘটনাগুলোর ধারাবাহিক ফলোআপে মনযোগী হয় না।

সংবাদ সম্মেলনে ৯টি দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হচ্ছে, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা ১৮০ দিনের মধ্যেই নিষ্পত্তি করতে হবে। উচ্চ আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে, বিচার চলাকালে নির্যাতনের শিকার নারী, শিশু ও পরিবারের নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় সাক্ষী প্রদান প্রক্রিয়া যুগোপযোগী করতে হবে, হাইকোর্টের দেয়া ২০০৯ সালের নির্দেশনা অনুযায়ী যৌন হয়রানি প্রতিরোধ নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের কার্যকর ব্যবস্থা করতে হবে, পারিবারিক নির্যাতন (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন ২০১০ সফল করতে হবে, ধর্ষণ, যৌন সহিংসতা, নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে সরকারকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে, নারী নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান ঘোষণা ও বাস্তবায়ন করতে হবে এবং সকল প্রকার বৈষম্যমূলক আইন ও নারী নির্যাতন বিরোধী আইনকে সংশোধন করে সময়োপযোগী করতে হবে।

দাবিগুলো উথাপন করে জিনাত আরা হক বলেন, আমরা জানি শুধু আইন প্রণয়ন করে নারী নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব না। প্রয়োজন নারীর প্রতি সমাজের অবমূল্যায়িত দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। প্রয়োজন একটি সামাজিক আন্দোলন।

তিনি জানান, এরই ধারবাহিকতায় আমরাই পারি জোটের একযোগে এই নয়টি দাবী নিয়ে আগামীকাল সকালে মানববন্ধন আয়োজন করবে। মানববন্ধন শেষে দাবীগুলো নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করবে।