ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৯, জানুয়ারি ২০২৬ ১৪:২১:১৩ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
পোস্টাল ভোট: ১৪৮ দেশে নিবন্ধন, সৌদি আরব শীর্ষে এক বছরে ১৭ লাখ শিশুর জন্ম অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারে হামলা-অপমানে ভাঙছে মাঠপুলিশের মনোবল কোনো দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নন তারেক রহমান ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে প্রযুক্তির হাত ধরেই: প্রধান উপদেষ্টা ‘ডেইরি ফার্ম জাতীয় অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় খাত’

গাজা যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে গাজাবাসী খুশি, আছে উৎকণ্ঠাও

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:২২ এএম, ১০ অক্টোবর ২০২৫ শুক্রবার

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের কারাগারে থাকা শত শত ফিলিস্তিনি বন্দির বিনিময়ে জিম্মি মুক্তির শর্তে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে হামাস ও ইসরায়েল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পনায় মিসরের শারম আল শেখ রিসোর্টে আলোচনার ভিত্তিতে দুপক্ষ চুক্তিতে সই করে। ওই আলোচনায় হামাস নেতা খলিল আল হায়াও অংশ নেন, যাকে হত্যার জন্য কয়েক দিন আগে কাতারে বিমান হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল।

যুদ্ধবিরতি চুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়লে গতকাল বৃহস্পতিবার যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজায় রাস্তায় নেমে উল্লাস করতে থাকেন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা। জিম্মি ফেরত আসার সম্ভাবনায় ব্যাপক উল্লাসে মেতে ওঠেন ইসরায়েলিরাও। তবে এ প্রক্রিয়া চলাকালেও ইসরায়েল গাজার বিভিন্ন অংশে বোমা হামলা চালায়। এতে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে। বিবিসি লিখেছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে। জিম্মি মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েল তাদের কারাগারে থাকা হাজার হাজার বন্দির মধ্য থেকে দুই হাজার জনকে মুক্ত করবে। গাজায় এখনও ২১ জন জিম্মি জীবিত আছেন বলে ধারণা করা হয়। রয়টার্স জানায়, আগামী সোমবারের মধ্যে তাদের মুক্তি দেওয়া হতে পারে। যুদ্ধবিরতির এ প্রথম পর্যায়ে পরবর্তী ধাপ নিয়ে আলোচনা হবে। 

গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনের দুই বছর পূর্ণ হয় গত ৭ অক্টোবর। এ সময়ে ইসরায়েল বোমা হামলা, ত্রাণকেন্দ্রে গুলি ও অভুক্ত রেখে ৬৭ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে। আহতের সংখ্যা এক লাখ ৭০ হাজারের বেশি। হতাহতের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। গণহত্যা চলাকালে রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে প্রভাবশালী যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বেশ কয়েকটি দেশ। অন্যদিকে, বিশ্ব দরবারে গণহত্যাকারী হিসেবে আরও বেশি নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছে ইসরায়েল। 

ট্রাম্পের কূটনৈতিক সাফল্য

গাজায় একটি শান্তিচুক্তির প্রত্যাশা থাকলেও কেবল যুদ্ধবিরতিতে আপাতত সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে ফিলিস্তিনিদের। এখনও অনেক অমীমাংসিত বিষয় আলোচনার টেবিলে রয়েছে। এসব বিষয়ে অসম্মতি দেখিয়ে ইসরায়েল যে আবার হামলা করবে না, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া কঠিন। 

এ চুক্তিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। চুক্তি হওয়ার পর সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘এটা আরব ও মুসলিম বিশ্ব, ইসরায়েল, এর আশাপাশের দেশ, যুক্তরাষ্ট্র এবং এ চুক্তি সইতে ঐতিহাসিক ও নজিরবিহীন ভূমিকা রাখা মধ্যস্থতাকারী কাতার, মিসর ও তুরস্কের জন্য মহান দিন। শান্তি জয় হোক।’ ট্রাম্প লিখেছেন, শিগগিরই সব জিম্মিকে মুক্ত করা হবে এবং ইসরায়েল তার সব সেনাদের নির্ধারিত একটি ‘সীমারেখায়’ সরিয়ে নেবে। দ্য গার্ডিয়ান অনলাইন জানায়, ইসরায়েল তাদের সেনা সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

গাজায় উল্লাস

এ যুদ্ধবিরতি গাজার মানুষের জন্য স্বস্তি নিয়ে এসেছে। লোকজন রাস্তায় নেমে উল্লাস প্রকাশ করছেন; গান গাইছেন। শিশুরা আনন্দ প্রকাশ করছে। তাদের কেউ বাবাকে হারিয়েছে, কেউ মাকে। কেউ বাবা-মা উভয়কে হারিয়েছে। তবু হামলা বন্ধের খবরে তারা উল্লসিত। 

খান ইউনিসের বাসিন্দা আব্দুল মজিদ আব্দ রাব্বি বলেন, কেবল তিনিই খুশি নন, উপত্যকার সব মানুষই খুশি; আরবসহ সারাবিশ্ব খুশি; হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে। তবে উদ্বেগ কটেনি। অতীতে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে– এমন নজিরও কম নেই। 

ইসরায়েলে উদযাপন

জিম্মি মুক্তির খবরে ইসরায়েলের সড়কে নেমে উল্লাস করেছেন লাখ লাখ মানুষ। আলজাজিরা জানায়, তেল আবিবের জিম্মি চত্বরে লোকজন ড্রাম বাজিয়ে উল্লাস করেন। তাদের সঙ্গে যোগ দেন বিরোধী দলের নেতা ইয়ার লাপিদও। জেরুজালেমেও ইসরায়েলের বাসিন্দাদের উল্লাস করতে দেখা গেছে।

জিম্মি ও বন্দিদের মুক্তি

হামাসের আলোচক দলের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, চুক্তির প্রথম পর্যায়ে হামাস একসঙ্গে ২০ জন জীবিত জিম্মিকে মুক্তি দেবে। ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা এএফপিকে জানান, ইসরায়েল অন্তত দুই হাজার ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে। তাদের মধ্যে ২৫০ জন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন; এক হাজার ৭০০ জনকে যুদ্ধ শুরুর পর আটক করা হয়েছে। নেতানিয়াহুর কার্যালয় জানিয়েছে, জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করার চুক্তিটি কেবল মন্ত্রিসভার অনুমোদন পাওয়ার পরই কার্যকর হবে।

‘ফিলিস্তিনি ম্যান্ডেলা’র মুক্তি দাবি

হামাস ইসরায়েলের কারাগার থেকে যাদের মুক্তি চাচ্ছে, সে তালিকাটি ছিল যুদ্ধবিরতি আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। হামাস তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ফাতাহ আন্দোলনের হাইপ্রোফাইল বন্দি মারওয়ান বারঘৌতির মুক্তি চেয়েছে। ২০০৪ সালে খুনের অভিযোগে বারঘৌতিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বারঘৌতিকে তাঁর সমর্থকরা ‘ফিলিস্তিনি ম্যান্ডেলা’ বলেও ডাকেন। 

কতটা যাবে ত্রাণ 

হামাস জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির প্রথম পাঁচ দিনের জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ৪০০ ট্রাক ত্রাণ গাজা উপত্যকায় প্রবেশ করবে, যা পরবর্তী দিনগুলোতে আরও বাড়বে। গাজার দক্ষিণ থেকে বাস্তুচ্যুতদের অবিলম্বে গাজা সিটি ও উত্তরে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থাও এতে অন্তর্ভুক্ত আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস বলেন, তাঁর সংস্থা গাজায় রোগীদের ভয়াবহ স্বাস্থ্যসেবা ঘাটতি মেটানো ও ধ্বংসপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পুনর্বাসনে সহায়তায় কাজ করতে প্রস্তুত।

সেনা প্রত্যাহার

হামাসের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, চুক্তিতে ইসরায়েলের সেনাদের ‘প্রত্যাহারে’র কথা বলা হয়েছে। এ বিষয়ে ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে নিশ্চয়তা’ অন্তর্ভুক্ত আছে। ইসরায়েলের সেনাবাহিনী গতকাল বৃহস্পতিবার জানায়, তারা চুক্তির অংশ হিসেবে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

যে মূল প্রশ্নগুলো রয়ে গেছে

ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার ওপর ভিত্তি করে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ ও যুদ্ধ-পরবর্তী গাজাকে ট্রাম্পের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষ দ্বারা শাসনের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এসব বিষয় এখনও সমাধান করা হয়নি। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেন, তাঁর প্রত্যাশা, গাজা চুক্তি একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দিকে পরিচালিত করবে। 

চুক্তি ঘোষণার পরও গাজায় হামলা

যুদ্ধবিরতি চুক্তি ঘোষণার পরও গাজার বিভিন্ন স্থানে হামলা হয়েছে। মিডল ইস্ট আই জানায়, উপত্যকার গাজা সিটি ও খান ইউনিসে গত বুধবার রাতভর হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুতরা যাতে দক্ষিণ থেকে উত্তর গাজায় ফিরতে না পারেন, সেজন্য আল-রশিদ সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল। 

বিশ্বনেতাদের শুভেচ্ছা

বিবিসি লিখেছে, জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেল আন্তোনিও গুতেরেস সব পক্ষকে এ চুক্তির সব শর্ত মেনে চলতে আহ্বান জানিয়েছেন। গুতেরেস বলেন, এই দুর্ভোগের অবসান হওয়া উচিত। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এ শান্তি পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ে দুপক্ষের একমত হওয়ার খবরে বিবৃতিতে বলেন, ‘এটি একটি গভীর স্বস্তিকর মুহূর্ত। গাজার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সংবাদকে আমি স্বাগত জানাই।’ স্বাগত জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ। এ ছাড়া রাশিয়া, বিভিন্ন আরব দেশসহ বিশ্বের নানা দেশ এ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে।