ঢাকা, বৃহস্পতিবার ২৯, জানুয়ারি ২০২৬ ২৩:১২:৩৪ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
পোস্টাল ভোট: ১৪৮ দেশে নিবন্ধন, সৌদি আরব শীর্ষে এক বছরে ১৭ লাখ শিশুর জন্ম অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারে হামলা-অপমানে ভাঙছে মাঠপুলিশের মনোবল কোনো দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নন তারেক রহমান ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে প্রযুক্তির হাত ধরেই: প্রধান উপদেষ্টা ‘ডেইরি ফার্ম জাতীয় অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় খাত’

টেক্সাসের বন্যায় মৃত্যু ১০০ ছাড়াল, নিখোঁজ অনেকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:১৮ এএম, ৮ জুলাই ২০২৫ মঙ্গলবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

মারাত্মক বন্যায় যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে মৃত্যুর সংখ্যা সোমবার ১০০-এর বেশি ছাড়িয়ে গেছে। ক্ষীণ আশা নিয়ে এখনো উদ্ধারকর্মীরা তীব্র স্রোতে ভেসে যাওয়া মানুষের দেহ খুঁজতে এখনও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

আজ মঙ্গলবার (৮ জুলাই) এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

মৃতদের মধ্যে অন্তত ২৭ জন মেয়ে ও তত্ত্বাবধায়ক রয়েছেন। তারা চতুর্থ জুলাই ছুটির সপ্তাহান্তে একটি নদীর ধারে গ্রীষ্মকালীন শিবিরে ছিলেন। এসময় হঠাৎ বন্যা আঘাত হানে।

আবহাওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আরও বৃষ্টি হতে পারে, যা উদ্ধার তৎপরতাকে জটিল করে তুলবে। হেলিকপ্টার, নৌকা ও কুকুর ব্যবহার করে উদ্ধার তৎপরতা চলছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার টেক্সাস সফরে যাবেন। 

ট্রাম্প এই বন্যাকে ‘এক শতাব্দীর বিপর্যয়’ বলে উল্লেখ করেছেন, যা ‘কেউ আশা করেনি।’

বন্যায় টেক্সাসের মধ্য অঞ্চলের কের কাউন্টি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্থানীয় শেরিফ দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এখানে ৫৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ২৮ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছেন।

মৃতদের মধ্যে ২৭ জন ছিলেন ‘ক্যাম্প মিস্টিক’ নামের মেয়েদের খ্রিস্টান গ্রীষ্মকালীন শিবিরে। যেখানে প্রায় ৭৫০ জন অবস্থান করছিলেন। তখন হঠাৎ করে প্রবল বন্যার স্রোত শিবিরে আছড়ে পড়ে।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রীষ্মকালীন ছুটিতে শিশু-কিশোরদের শিবিরে যাওয়া একটি প্রিয় ঐতিহ্য, যেখানে তারা বন, পার্ক এবং গ্রামের পরিবেশে সময় কাটায়।

গুয়াদালুপ নদীর পানি এত বেড়ে যায় যে, গাছের ডালপালা এবং কেবিনের ছাদ পর্যন্ত পানি পৌঁছে যায়, তখন শিবিরের মেয়েরা ঘুমাচ্ছিল।

কাদা মাখা কম্বল, খেলনা, বই এবং অন্যান্য সামগ্রী চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। কেবিনের জানালার কাচ ভেঙে যায়, সম্ভবত পানির প্রচণ্ড চাপে।

নদীর তীরে জমে থাকা ধ্বংসাবশেষে নিখোঁজদের খুঁজতে স্বেচ্ছাসেবকরা সহায়তা করছেন। অনেকেই ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে উদ্বুদ্ধ হয়ে উদ্ধার তৎপরতায় নেমেছেন।

৬২ বছর বয়সি লুইস ডেপ বলেন, ‘আমরা দুইজন নিখোঁজ শিশুর বাবা-মায়ের জন্য সাহায্য করছি। শেষবার তারা যে বার্তা পেয়েছিল, তাতে লেখা ছিল ‘আমরা ভেসে যাচ্ছি’, এরপর ফোন বন্ধ হয়ে যায়।’

বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত কয়েক ঘণ্টায় এক মাসের সমপরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে এবং এরপরও থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে।

মাত্র ৪৫ মিনিটে গুয়াদালুপ নদীর পানি প্রায় ২৬ ফুট (প্রায় আট মিটার) বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দুইতলা বাড়ির সমান উচ্চতা।

দক্ষিণ এবং মধ্য টেক্সাসের এই অঞ্চলটি ‘হঠাৎ বন্যার করিডোর’ নামে পরিচিত, যেখানে অতিবর্ষণে আকস্মিক বন্যা নতুন নয়। তবে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বন্যা, খরা এবং তাপপ্রবাহের মতো চরম আবহাওয়া আরও ঘন ঘন এবং তীব্র আকারে দেখা দিচ্ছে।