ঢাকা, শুক্রবার ৩০, জানুয়ারি ২০২৬ ৭:১১:৫১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
পোস্টাল ভোট: ১৪৮ দেশে নিবন্ধন, সৌদি আরব শীর্ষে এক বছরে ১৭ লাখ শিশুর জন্ম অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারে হামলা-অপমানে ভাঙছে মাঠপুলিশের মনোবল কোনো দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নন তারেক রহমান ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে প্রযুক্তির হাত ধরেই: প্রধান উপদেষ্টা ‘ডেইরি ফার্ম জাতীয় অর্থনীতির একটি সম্ভাবনাময় খাত’

ভোলায় খেজুর গাছের রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০২:৫১ পিএম, ২৬ ডিসেম্বর ২০২২ সোমবার

সংগৃহীত ছবি

সংগৃহীত ছবি

ভোলায় পৌষের তীব্র শীতে ব্যস্ত সময় পার করছেন খেজুর গাছের রস আহরণের গাছিরা। বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় ঘন কুয়াশা মধ্যে খেজুর গাছের রস সংগ্রহে নেমে পড়েন তারা। 

গ্রামীণ পথের পাশে সারি সারি খেজুর গাছে ঝুলতে থাকে রসের হাড়ি। আমাদের গ্রাম বাংলার আদি ঐতিহ্যের সাথে খেজুরের রস ও শীতকাল একাকার হয়ে আছে। তাই শীত এলেই সুমিষ্ট খেজুরের রসের কদর বাড়ে।

গাছিরা জানান, খেজুর গাছের মাথায় একই স্থানে অনেকখানি বাকল তুলে সেথায় হাড়ি বেঁধে নালার (বাঁশের তৈরি) সাহায্যে এ রস সংগ্রহ করা হয়। সাধারণত বিকেলে অথবা সন্ধ্যায় গছে হাড়ি বেঁধে রেখে যায় গাছিরা। আর প্রতিদিন ভোরে ঘন কুয়াশার মধ্যে গাছ থেকে রসে ভরা হাড়ি নামানো হয়। পুরো এলাকা তখন কাচা রসের মহোনীয় গন্ধে মৌ-মৌ করে। এসব রসের হাড়ি মান ভেদে ১৫০ থেকে ২০০টাকায় বিক্রি করা হয়।

জানা যায়, এখানে শীতের মূল উৎসবই হলো শীতের পিঠা। ঘরে ঘরে আসে নতুন ধানের চাল। সেই চালের গুড়ো দিয়ে তৈরি হয় হরেক রকম পিঠা-নাস্তা। যার মূল উপাদন খেজুরের রস, গুড় ও পাটালী। আর শীতের সকালে রোদে বসে পিঠা খেতে কার না ভালো লাগে। তাই এসময় গ্রামের ঘরে ঘরে পিঠা ও নাস্তা তৈরির ধুম পড়ে যায়। শিশু, যুবক, বৃদ্ধ সবাই মেতে উঠে পিঠা খাওয়ার উৎসবে। 

গাছিরা জানিয়েছেন, জেলার বিভিন্ন উপজেলার বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বেশি করে খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করা হয়। আগের চেয়ে খেজুর গাছের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। তাই অনেকেই আগাম রসের জন্য গাছিদের কাছে অগ্রিম টাকা দিয়ে রেখেন রস সংগ্রহের জন্য। সেই টাকায় কেউ কেউ রস সংগ্রহের সরাঞ্জম ক্রয় করে এখন রস সংগ্রহে মগ্ন। 

জেলার লালমোহন উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের জালাল মিয়া বলেন, অন্য মৌসুমে তারা বিভিন্ন ফসলের চাষ করেন। কিন্তু শীত এলেই তারা খেজুরের গাছ কাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কারণ এ অঞ্চলে রসের পর্যাপ্ত চাহিদা থাকায় ভালো টাকা লাভ হয়। এছাড়া খেজুরের গুড়েরও বেশ কদর রয়েছে। 

তিনি আরো জানান, তাদের নিজেদের কোন গাছ নেই। অন্যের গাছ কেটে রস সংগ্রহ করতে হয়। আর গাছের মালিককেও রসের একটা অংশ দিতে হয়। তারপরেও প্রতি বছর তারা রস বিক্রি করে লাভবান হন বলে জানান।

বোরহানউদ্দিন উপজেলার গাছি ফরিদ হোসেন ও বাহার আলী বলেন, এক সময় প্রচুর খেজুরের গাছ ছিলো। তখন রসও পাওয়া যেত প্রচুর। তারা রস বয়ে নিয়ে বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে বিক্রি করতেন। এখন আর সেই দিন নেই। এখন আগাম বলে রেখে দূর দূরান্ত থেকে এখানে এসে মানুষকে রস নিতে হয়। কেউ কেউ রাসের জন্য আগাম টাকা দিয়ে রাখেন।