ঢাকা, শুক্রবার ২০, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৪:৪৪:০১ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
দেশে আবারও ভূমিকম্প, উৎপত্তিস্থল ছাতক ভিসা জটিলতা নিরসনে সরকার কাজ করছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ৫০ তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার সূচি প্রকাশ রোজায় নতুন সময়সূচিতে চলছে মেট্রোরেল সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মন্ত্রণালয়ের কাজ গতিশীল করতে চাই: আফরোজা খানম

রাজনীতি মানে মানুষের পাশে দাঁড়ানো: রুমিন ফারহানা

অনলাইন ডেস্ক | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:২১ পিএম, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বৃহস্পতিবার

রুমিন ফারহানা

রুমিন ফারহানা

এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়ে সংসদে জায়গা করে নিয়েছেন রুমিন ফারহানা। নির্বাচনের পর প্রথমবারের মতো নিজের এলাকা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তিনি কথা বলেন মিডিয়ার সঙ্গে। তা তুলে ধরা হলো।

প্রশ্ন: স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হওয়াকে আপনি কীভাবে দেখছেন?
রুমিন ফারহানা: এটি আমার জন্য বড় দায়িত্বের জায়গা। আমি কোনো দলের পরিচয়ে নয়, জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়েছি—এটাই আমার শক্তি। এতে আমার দায়বদ্ধতা আরও বেড়েছে। আমি নিজেকে একজন দলনিরপেক্ষ জনপ্রতিনিধি হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।

প্রশ্নটা: ‘ঘরের মেয়ে ঘরে ফিরে যাবেন কি না’, অর্থাৎ আবার বিএনপিতে ফিরবেন কি না?
রুমিন ফারহানা:
আমি এই নির্বাচনে জনগণের ভোটে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। এখন আমার প্রথম দায়িত্ব আমার এলাকার মানুষের কথা বলা এবং তাদের জন্য কাজ করা। দলীয় রাজনীতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এখন নয়। ভবিষ্যতে কী হবে, তা সময়ই ঠিক করবে। রাজনীতি মানে শুধু দল নয়, রাজনীতি মানে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। আমি আপাতত সেই দায়িত্বটাই পালন করতে চাই।

প্রশ্ন: নারীদের জন্য আপনি কী করবেন?
রুমিন ফারহানা:
নারীদের শুধু ভাতা বা সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না, তাদের স্বাবলম্বী করতে হবে। আমি চাই মেয়েরা শিক্ষায়, কর্মে ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমান সুযোগ পাক।
আমার এলাকায় নারীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে চাই, যাতে তারা নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে। পাশাপাশি নারীর প্রতি সহিংসতা ও হয়রানি রোধে আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতা—দুটোই জরুরি।

প্রশ্ন: আপনার এলাকার সবচেয়ে বড় সমস্যা কোনটি বলে মনে করেন?
রুমিন ফারহানা:
আমার এলাকার প্রধান সমস্যা কর্মসংস্থান ও স্বাস্থ্যসেবা। বিশেষ করে তরুণদের কাজের সুযোগ খুবই সীমিত। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ডাক্তার ও আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব রয়েছে।

প্রশ্ন: এই সমস্যাগুলো সমাধানে আপনার নির্দিষ্ট পরিকল্পনা কী?
রুমিন ফারহানা:
আমি তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিতে চাই—
১. স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প স্থাপন, যাতে তরুণদের কর্মসংস্থান হয়।
২. স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়ানো ও উপজেলা হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিশ্চিত করা।
৩. কারিগরি শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো, যাতে তরুণরা দ্রুত কর্মমুখী হতে পারে।

প্রশ্ন: নারী উন্নয়ন নিয়ে আপনার ভাবনা কী?
রুমিন ফারহানা:
নারীরা এখনো অনেক ক্ষেত্রে পিছিয়ে। আমি চাই—প্রতিটি ইউনিয়নে নারী উদ্যোক্তা তৈরি হোক. নারীদের জন্য আলাদা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র চালু হোক, পরিবার ও সমাজে নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বাড়ুক। আমি বিশ্বাস করি, নারীকে এগিয়ে নিতে পারলে পরিবার ও সমাজ দুটোই বদলাবে।

প্রশ্ন: শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আপনার অগ্রাধিকার কী?
রুমিন ফারহানা:
স্কুলে ঝরে পড়া কমানো আমার অন্যতম লক্ষ্য। দরিদ্র পরিবারের মেয়েরা যেন মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়াশোনা শেষ করতে পারে, সে জন্য বৃত্তি ও উপবৃত্তির ব্যবস্থা জোরদার করতে চাই। পাশাপাশি মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষার মধ্যে সমন্বয় করে কর্মমুখী শিক্ষা চালু করা দরকার।

প্রশ্ন: পরিবেশ ও অবকাঠামো নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
রুমিন ফারহানা:
গ্রামাঞ্চলের রাস্তা, ড্রেনেজ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা উন্নত করা জরুরি। আমি পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন চাই—যেন উন্নয়নের নামে জলাশয় ভরাট না হয় এবং কৃষিজমি নষ্ট না হয়।

প্রশ্ন: সংসদে গিয়ে আপনি কী ভূমিকা রাখতে চান?
রুমিন ফারহানা:
আমি সংসদে নিয়মিত কথা বলতে চাই—নিজ এলাকার সমস্যা তুলে ধরতে চাই। শুধু উন্নয়ন প্রকল্প নয়, নারীর অধিকার, তরুণদের কর্মসংস্থান এবং স্বাস্থ্যখাত নিয়ে জোরালো ভূমিকা রাখতে চাই।

প্রশ্ন: স্বপ্নের এলাকার ছবি কেমন?
রুমিন ফারহানা:
আমি এমন একটি এলাকা দেখতে চাই—যেখানে কেউ চিকিৎসার অভাবে মারা যাবে না, যেখানে মেয়েরা ভয় ছাড়া স্কুলে যাবে, যেখানে তরুণদের কাজের জন্য ঢাকায় ছুটতে হবে না, যেখানে জনপ্রতিনিধিকে মানুষ আপনজন ভাববে। এটাই আমার স্বপ্ন।

প্রশ্ন: আপনার নির্বাচকদের উদ্দেশে বার্তা কী?
রুমিন ফারহানা:
আমি আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি, তাই আমি আপনাদেরই প্রতিনিধি। দল নয়, আমি মানুষের কথা বলবো। ভুল করলে আপনারা সমালোচনা করবেন—সেটাই আমাকে ঠিক পথে রাখবে।