ঢাকা, রবিবার ০৮, নভেম্বর ২০২৬ ২১:৪৯:৪৩ পিএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে পরীমনিকে আইনি নোটিশ শ্যামাপূজা ও দীপাবলি উৎসব আজ এইচএসসির ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনের সময় বাড়ল জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্প, আহত অন্তত ২২ মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশের মুকুট জিতলেন সামিরা খান মাহি নড়াইলে ১৬ নারী দলের নৌকা বাইচ, নদীর দুই পাড়ে উৎসব ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম ও সিলেটে ট্রেন চলাচল বন্ধ

সংসারের চার দেয়ালে বন্দি মানবাধিকার

স্মৃতি চক্রবর্তী | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০৭:৫৭ পিএম, ৮ নভেম্বর ২০২৬ রবিবার

স্মৃতি চক্রবর্তী

স্মৃতি চক্রবর্তী

বিয়ে কি নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদার আশ্রয়, নাকি কখনো কখনো এমন এক সম্পর্ক, যেখান থেকে বেরিয়ে আসার পথও তার নিজের হাতে থাকে না? বাংলাদেশের হিন্দু বিবাহিত নারীদের জীবনে এই প্রশ্নটি আজও গভীরভাবে প্রাসঙ্গিক।
সংসার মানে ভালোবাসা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, নিরাপত্তা ও সমান মর্যাদা। কিন্তু অনেক নারীর কাছে সংসার হয়ে ওঠে এমন এক পরিসর, যেখানে প্রতিদিনের অপমান, মানসিক নির্যাতন, অর্থনৈতিক নির্ভরতা, শারীরিক সহিংসতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের অধিকারহীনতা নীরবে জমতে থাকে।
বিশেষ করে হিন্দু বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে পারিবারিক নির্যাতনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত আইনের বৈষম্যও তাদের অসহায়ত্ব বাড়িয়ে দিতে পারে। স্বামী নির্যাতন করলে, পরিত্যাগ করলে কিংবা অন্যত্র বিয়ে করলে একজন নারী কীভাবে নিজের জীবন নতুন করে গড়ে তুলবেন? নিজের উপার্জন, সম্পদ, সন্তান এবং নিরাপদ আশ্রয়ের ওপর তার কতটুকু অধিকার থাকবে?
এসব প্রশ্ন কেবল পারিবারিক সম্পর্কের নয়; এগুলো নারীর মানবাধিকার, নাগরিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্ন।
বাংলাদেশের সংবিধান নারী-পুরুষের সমতা এবং আইনের সমান আশ্রয়ের নিশ্চয়তা দিয়েছে। অথচ পারিবারিক জীবনে নারীর অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে সামাজিক রীতিনীতি, অর্থনৈতিক নির্ভরতা এবং ব্যক্তিগত আইনের সীমাবদ্ধতা অনেক সময় সেই সাংবিধানিক অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে ওঠে।
নির্যাতনের শুরু ঘরের ভেতরেই
পারিবারিক নির্যাতন বলতে আমরা সাধারণত শারীরিক আঘাতকে বুঝি। কিন্তু একজন নারীকে প্রতিনিয়ত অপমান করা, তার চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করা, নিজের উপার্জনের ওপর অধিকার না দেওয়া, চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা কিংবা সন্তানদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করার ভয় দেখানোও নির্যাতনের অংশ।
বাংলাদেশের পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০-এ শারীরিক, মানসিক, যৌন ও অর্থনৈতিক নির্যাতনকে পারিবারিক সহিংসতার আওতায় আনা হয়েছে। অর্থাৎ, স্ত্রীকে মারধর না করলেও তার অর্থনৈতিক স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া কিংবা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলা আইনের দৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, অনেক নারী পারিবারিক নির্যাতনকে নিজের দুর্ভাগ্য হিসেবে মেনে নেন। সংসার টিকিয়ে রাখার দায়, সামাজিক সম্মান, সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং বাপের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার অনিশ্চয়তা তাদের প্রতিবাদ করতে বাধা দেয়।
অনেকের ক্ষেত্রে নির্যাতনকারী শুধু স্বামী নন। শ্বশুরবাড়ির অন্য সদস্যদের অপমান, গৃহকর্মের অতিরিক্ত চাপ, পণের দাবি এবং স্বামীর নিষ্ক্রিয়তা নারীর জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলতে পারে।
আইনের বৈষম্য ও হিন্দু নারীর অসহায়ত্ব
বাংলাদেশে হিন্দু বিবাহিত নারীর অধিকার নিয়ে আলোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো বিবাহবিচ্ছেদের অধিকার।

দেশে প্রচলিত হিন্দু ব্যক্তিগত আইনে বিবাহবিচ্ছেদের সাধারণ কোনো বিধান নেই। অর্থাৎ, একজন হিন্দু নারী স্বামীর সঙ্গে সম্পর্ক সম্পূর্ণভাবে শেষ করে নতুন জীবন শুরু করতে চাইলে তার সামনে মুসলিম নারীদের মতো বিবাহবিচ্ছেদের আইনগত পথ খোলা নেই।
১৯৪৬ সালের Hindu Married Women’s Right to Separate Residence and Maintenance Act অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে হিন্দু নারী স্বামীর কাছ থেকে পৃথক বসবাস ও ভরণপোষণ দাবি করতে পারেন। স্বামীর নিষ্ঠুরতা, পরিত্যাগ, পুনর্বিবাহ কিংবা অন্য কিছু নির্দিষ্ট কারণ এর মধ্যে রয়েছে।
কিন্তু পৃথক বসবাসের অধিকার এবং বিবাহবিচ্ছেদের অধিকার এক বিষয় নয়।

একজন নারী নির্যাতনের কারণে স্বামীর কাছ থেকে আলাদা থাকতে পারলেও তার বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে বহাল থাকতে পারে। ফলে নতুন করে জীবন শুরু করা, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ কিংবা নিজের পছন্দে পুনর্বিবাহের ক্ষেত্রে তিনি নানা জটিলতার মুখোমুখি হন।
এ ছাড়া হিন্দু ব্যক্তিগত আইনে পুরুষের একাধিক বিয়ের সুযোগ এবং নারীর বিবাহবিচ্ছেদের অধিকার না থাকা নারী-পুরুষের সমতার প্রশ্নকে আরও জটিল করে তোলে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ২০১২ সালের প্রতিবেদন “Will I Get My Dues … Before I Die?”-এ বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নারীদের বৈবাহিক অধিকার ও নির্যাতনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈষম্যমূলক ব্যক্তিগত আইন অনেক নারীকে নির্যাতনমূলক দাম্পত্য সম্পর্কে আটকে রাখে এবং বিচ্ছেদ বা পরিত্যক্ত হওয়ার পর তাদের অর্থনৈতিক দুর্দশা বাড়িয়ে দেয়।
নম্রতার জীবনে নির্যাতনের ভয়াবহ পরিণতি
হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে নম্রতা নামে এক হিন্দু নারীর অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে। নিরাপত্তার কারণে তার প্রকৃত নাম প্রকাশ করা হয়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নম্রতা একটি হাসপাতালে কাজ করে প্রায় দুই লাখ টাকা সঞ্চয় করেছিলেন। স্বামী নিজের ব্যবসা শুরু করবেন বলে সেই অর্থ নেন। কিন্তু ব্যবসায় বিনিয়োগ না করে টাকা তার বাবা-মাকে দিয়ে দেন।

নম্রতা টাকা ফেরত চাইলে স্বামীর সঙ্গে তার সম্পর্কের অবনতি ঘটে। একপর্যায়ে স্বামী তাকে মারধর করতে শুরু করেন।
২০০৯ সালে অসুস্থ অবস্থায় নম্রতাকে পানি দেওয়ার কথা বলে স্বামী অ্যাসিড পান করান। সেই ভয়াবহ আক্রমণের পর স্বামী পালিয়ে যান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নম্রতা দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এবং স্বামীর বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন।
নম্রতার ঘটনা দেখায়, একজন নারী নিজের উপার্জন ও সঞ্চয় স্বামীর হাতে তুলে দেওয়ার পরও কীভাবে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হতে পারেন। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে, দাম্পত্য সম্পর্কের মধ্যে অর্থনৈতিক ক্ষমতার অসমতা নারীর নিরাপত্তাকে কতটা বিপন্ন করতে পারে।
সম্পত্তিতে অধিকারহীনতা: নির্যাতনের আরেকটি কারণ
বিয়ের পর একজন নারী সংসারের জন্য নিজের শ্রম, সময়, উপার্জন এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত সম্পদ ব্যয় করেন। সন্তান লালন-পালন, ঘরের কাজ, পরিবারের সদস্যদের যত্ন এবং স্বামীর কর্মজীবনে সহযোগিতার মাধ্যমে তিনি সংসারের সম্পদ গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখেন।
কিন্তু সংসার ভেঙে গেলে কিংবা স্বামী তাকে পরিত্যাগ করলে সেই অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি পাওয়া অনেক নারীর জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

বাংলাদেশে বিবাহিত দম্পতির অর্জিত সম্পত্তি সমানভাবে ভাগ করার কোনো সাধারণ আইনগত ব্যবস্থা নেই। হিন্দু নারীর ক্ষেত্রেও বৈবাহিক সম্পত্তিতে সমান অংশীদারত্বের নিশ্চয়তা নেই।
ফলে যে নারী বছরের পর বছর সংসার গড়ে তুলেছেন, তিনি নির্যাতনের কারণে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে গেলে অনেক সময় আশ্রয়হীন হয়ে পড়েন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে এমন নারীদের অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে, যারা স্বামীর বাড়ি ছেড়ে সন্তানদের নিয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছিলেন। কেউ আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন, কেউ রাস্তায় থেকেছেন, আবার কেউ সন্তানদের অন্যের বাড়িতে কাজ করতে পাঠাতে বাধ্য হয়েছেন।
 আদালতে হিন্দু নারীর অধিকার প্রশ্ন
বাংলাদেশে হিন্দু নারীর বৈবাহিক ও সম্পত্তিগত অধিকার নিয়ে আইনি উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে ২০২৩ সালে।
ওই বছরের মে মাসে হাইকোর্ট হিন্দু নারীর বিবাহবিচ্ছেদ, বিবাহ নিবন্ধন, ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব, দত্তক গ্রহণ এবং সমান উত্তরাধিকারের অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

নারী অধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট, নারীপক্ষ, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদসহ কয়েকটি সংগঠন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এ বিষয়ে জনস্বার্থে রিট আবেদন করেন।

আবেদনে বলা হয়, প্রচলিত হিন্দু ব্যক্তিগত আইন নারীদের বিবাহবিচ্ছেদ, বৈবাহিক সম্পত্তি এবং উত্তরাধিকারের ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার করে। হিন্দু নারীর অধিকার সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন ও পদক্ষেপ নিতে সরকারের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেন।
এই ঘটনা দেখায়, হিন্দু নারীর অধিকার নিয়ে দীর্ঘদিনের সামাজিক ও আইনি অসন্তোষ এখন আদালতের আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। 
ধর্মীয় পরিচয় নয়, মানবাধিকারের ভিত্তিতে বিচার
নারী অধিকারকর্মীদের মতে, হিন্দু নারীর বৈবাহিক অধিকার নিয়ে আলোচনা করতে গেলে ধর্মীয় অনুভূতিকে সম্মান করার পাশাপাশি নারীর ব্যক্তিস্বাধীনতা, নিরাপত্তা এবং মর্যাদাকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে।

একজন নারী কোন ধর্মের অনুসারী, তার ভিত্তিতে তার নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের অধিকার কমে যেতে পারে না।
মানবাধিকারের মূল কথা হলো, প্রত্যেক মানুষের নিজের জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে। বিয়ে, সংসার, সন্তান, সম্পত্তি কিংবা বিচ্ছেদ-এসব বিষয়ে নারীর মতামত ও সম্মতি উপেক্ষা করা যায় না।

একজন নারী যদি নির্যাতনের শিকার হন, তাহলে তাকে শুধু সংসার টিকিয়ে রাখার পরামর্শ দেওয়া যথেষ্ট নয়। তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়া এবং নিজের জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা জরুরি।

হিন্দু বিবাহিত নারীর মানবাধিকার সুরক্ষায় কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত, পারিবারিক সহিংসতার অভিযোগকে পারিবারিক বিষয় বলে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। নির্যাতনের শিকার নারীর নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, হিন্দু বিবাহের বাধ্যতামূলক নিবন্ধন কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বিবাহের প্রমাণ না থাকলে ভরণপোষণ বা অন্যান্য অধিকার আদায়ের ক্ষেত্রে নারীকে জটিলতায় পড়তে হয়।

তৃতীয়ত, বিবাহবিচ্ছেদ, ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব এবং সম্পত্তির ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে আইন সংস্কারের উদ্যোগ প্রয়োজন।

চতুর্থত, নির্যাতনের শিকার নারীদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, বিনা মূল্যে আইনি সহায়তা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে হবে।

সবশেষে, পরিবার ও সমাজকে বুঝতে হবে—সংসার টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব শুধু নারীর নয়। একটি সুস্থ দাম্পত্য সম্পর্কের ভিত্তি হলো পারস্পরিক সম্মান, সমান অধিকার ও নিরাপত্তা।
একজন হিন্দু বিবাহিত নারী যখন নিজের ঘরেই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তখন তার মানবাধিকার লঙ্ঘন শুধু ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি থাকে না; এটি রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব পালনের ব্যর্থতারও প্রতিফলন হয়ে ওঠে।

নারীর অধিকার রক্ষার অর্থ সংসার ভেঙে দেওয়া নয়। বরং এমন একটি পরিবার ও সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে কোনো নারীকে নির্যাতন সহ্য করে সংসার টিকিয়ে রাখতে বাধ্য হতে হবে না।
যে সংসারে নারীর সম্মতি নেই, নিরাপত্তা নেই, মর্যাদা নেই-সেই সংসারকে কেবল সামাজিক প্রথার কারণে অক্ষুণ্ণ রাখার দাবি মানবাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
নারীর অধিকার মানে তার নিজের জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার। সেই অধিকার নিশ্চিত করাই হতে পারে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও মানবিক পরিবারের প্রথম শর্ত।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক।