ঢাকা, সোমবার ২৩, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৪:৩৫:৪৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
রাইজিং স্টার্স নারী এশিয়া কাপ: ফাইনালে হার বাংলাদেশ ‘এ’ দলের থার্ড টার্মিনাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ, বললেন বিমানমন্ত্রী বিএনপির সাবেক মন্ত্রী সেলিমা রহমান সিসিইউতে রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার পদে কারা আলোচনায় রোজায় বাড়তি খরচ, হিমশিম খাচ্ছে নিম্নআয়ের মানুষ

সেলফোন সর্বনাশ করে ফেলছে এই প্রজন্মের

রাতুল মাঝি | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ০১:৫৬ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রবিবার

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

স্মার্টফোন এখন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পড়াশোনা, যোগাযোগ, বিনোদন—সবই এক যন্ত্রে সীমাবদ্ধ। কিন্তু প্রযুক্তির এই সুবিধাই ধীরে ধীরে হয়ে উঠছে নতুন প্রজন্মের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি। অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে—এমন তথ্য উঠে আসছে বিভিন্ন গবেষণায়।

পড়াশোনায় মনোযোগ কমছে

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় মোবাইল স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের মনোযোগের ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। অনলাইন গেম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভিডিও প্ল্যাটফর্মে আসক্ত হয়ে পড়ায় পড়ালেখার সময় কমছে।
একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, শহরের শিক্ষার্থীদের বড় অংশ দিনে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা মোবাইল ফোন ব্যবহার করছে, যার অধিকাংশ সময়ই কাটছে বিনোদনমূলক কাজে।

বাড়ছে মানসিক সমস্যা

মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার উদ্বেগ, বিষণ্নতা ও একাকিত্ব বাড়াচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যদের ‘সফল’ জীবন দেখে অনেক কিশোর-কিশোরী হীনমন্যতায় ভুগছে।
বিশেষজ্ঞরা একে বলছেন “ডিজিটাল ডিপেনডেন্সি”, যেখানে ফোন ছাড়া কিছুক্ষণ থাকলেও অস্থিরতা তৈরি হয়।

শারীরিক ক্ষতির ঝুঁকি

চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহারে—
– চোখের দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হচ্ছে
– ঘাড় ও মেরুদণ্ডে ব্যথা বাড়ছে
– ঘুমের সমস্যা দেখা দিচ্ছে
– স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ছে

বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর আগে মোবাইল ব্যবহারের কারণে মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ ব্যাহত হয়, যা অনিদ্রার কারণ হচ্ছে।

সামাজিক সম্পর্কেও প্রভাব

আগে পরিবারে একসঙ্গে বসে কথা বলা বা আড্ডা দেওয়ার সংস্কৃতি ছিল। এখন অনেক পরিবারে দেখা যায়, সবাই আলাদা আলাদা করে মোবাইল স্ক্রিনে ডুবে থাকে। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, এতে পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হচ্ছে এবং শিশুরা সামাজিক আচরণ শেখার সুযোগ হারাচ্ছে।

আসক্তির লক্ষণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, মোবাইল আসক্তির কয়েকটি লক্ষণ হলো—
✔ ফোন ছাড়া থাকতে না পারা
✔ পড়াশোনা বা কাজে মন বসাতে না পারা
✔ রাতে দেরি করে ঘুমানো
✔ বিরক্তি ও রাগ বেড়ে যাওয়া
✔ বাস্তব জীবনের বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ কমে যাওয়া

কী বলছেন অভিভাবকরা

বিন্তি রহমান নামে একজন অভিভাবক বলেন, “বাচ্চাকে বই হাতে দিলে পাঁচ মিনিট থাকে, আর মোবাইল দিলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা।”

তাঁরা অভিযোগ করছেন, অনলাইন ক্লাসের অজুহাতে শিশুদের হাতে মোবাইল তুলে দেওয়া হলেও পরে তা গেম ও ভিডিও দেখার যন্ত্রে পরিণত হচ্ছে।

আসিফ করিম নামে আকেজন অভিভাবক বলেন, এখন তো এমন হয়েছে, সারাক্ষণই বাচ্চাদের হাতে ফোন থাকে। সেল ফোন ছাড়া তারা দেখি ‍ কিছুই করতে পারে না।

করণীয় কী

বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি পরামর্শ দিয়েছেন—
– শিশু ও কিশোরদের দৈনিক স্ক্রিন টাইম নির্ধারণ
– ঘুমানোর আগে মোবাইল ব্যবহার বন্ধ করা
– খেলাধুলা ও বই পড়ার অভ্যাস বাড়ানো
– পরিবারে একসঙ্গে সময় কাটানোর পরিবেশ তৈরি
– বিদ্যালয়ে ডিজিটাল সচেতনতা বিষয়ক কার্যক্রম জোরদার করা

উপসংহার

প্রযুক্তি জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও তার অপব্যবহার নতুন প্রজন্মের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। মোবাইল ফোন যেন উপকারী হাতিয়ার হয়ে থাকে, সর্বনাশের কারণ না হয়—সে দায়িত্ব নিতে হবে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্র—সব পক্ষকেই।