ঢাকা, সোমবার ২৩, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৪:৩৯:২০ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
রাইজিং স্টার্স নারী এশিয়া কাপ: ফাইনালে হার বাংলাদেশ ‘এ’ দলের থার্ড টার্মিনাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ, বললেন বিমানমন্ত্রী বিএনপির সাবেক মন্ত্রী সেলিমা রহমান সিসিইউতে রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার পদে কারা আলোচনায় রোজায় বাড়তি খরচ, হিমশিম খাচ্ছে নিম্নআয়ের মানুষ

নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের বড় বিপর্যয়, জয়ী মাত্র ৭

জোসেফ সরকার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:৪৮ এএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রবিবার

প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

দেশের মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেকই নারী হলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের ফলাফল হতাশাজনক। এ নির্বাচনে মোট ৮৭ জন নারী প্রার্থী অংশ নেন। তাঁদের মধ্যে প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পেরেছিলেন মাত্র ১৯ জন। শেষ পর্যন্ত জয়ী হয়েছেন ৭ জন নারী।

নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, নারী প্রার্থীরা মোট পেয়েছেন ১৬ লাখ ৮২ হাজার ৯৪১ ভোট। এর প্রায় ৯৭ শতাংশ ভোটই এসেছে ওই ১৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বী নারী প্রার্থীর ঝুলিতে। বাকি ৬৮ জনের মধ্যে ৬৬ জন তিন হাজারের কম ভোট পেয়েছেন এবং দুজন পেয়েছেন তিন থেকে পাঁচ হাজার ভোট।

যাঁরা জয়ী হয়েছেন

এবার সংসদে নির্বাচিত সাত নারী হলেন—
মানিকগঞ্জ-৩ আসনে আফরোজা খানম,
ঝালকাঠি-২ আসনে ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো,
সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদী,
নাটোর-১ আসনে ফারজানা শারমিন,
ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ ইসলাম,
ফরিদপুর-৩ আসনে নায়াব ইউসুফ আহমেদ (সবাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল),
এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় রুমিন ফারহানাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়।

নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ৭ নারী

বিভিন্ন আসনে আরও সাত নারী প্রার্থী নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হন। তাঁদের মধ্যে চারজন বিএনপির, দুজন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এবং একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী।

ফরিদপুর-৩ আসনের বিজয়ী নায়াব ইউসুফ আহমেদ বলেন, “নারীর প্রতি বৈষম্য ও পরিকল্পিত অপপ্রচারের কারণে অনেক আসনে নারী প্রার্থীরা জিততে পারেননি। একটি গোষ্ঠী চায় নারীরা অন্ধকারেই থাকুক।”

শিক্ষিত ও কর্মজীবী প্রার্থীরাও হারলেন

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যায়, নারী প্রার্থীদের ৭৫ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত এবং প্রায় ৬৭ শতাংশ কর্মজীবী ছিলেন। তা সত্ত্বেও নির্বাচনে তাঁদের সাফল্যের হার ছিল কম।

মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থীর মধ্যে নারী ছিলেন ৮৭ জন। শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় ভোট হয়নি এবং চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনের ফল আইনি জটিলতায় স্থগিত থাকে। বাকি ২৯৭ আসনের ফল প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন।

ভোটের হিসাবে নারীরা পিছিয়ে

ইসির হিসাবে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। সে হিসেবে নারী প্রার্থীরা মোট ভোটের ২ শতাংশের কিছু বেশি পেয়েছেন। মনোনয়নের তুলনায় নারীদের জয়ী হওয়ার হার ৮ শতাংশের একটু বেশি, যেখানে পুরুষদের ক্ষেত্রে তা প্রায় ১৫ শতাংশ।

২৫ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে কমসংখ্যক নারী সংসদে নির্বাচিত হলেন। এর আগে ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে ৭ জন নারী জয়ী হয়েছিলেন।

কেন কম জয়?

ঢাকা-১২ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাসলিমা আখতার তুলি বলেন, “আরও বেশি নারীকে মনোনয়ন দেওয়া, নারীবিদ্বেষী প্রচারণার বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা গড়া এবং নাগরিক হিসেবে নারীর মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করলেই নির্বাচনে নারীদের সাফল্য বাড়বে।”

উল্লেখযোগ্য ভোট পাওয়া নারী প্রার্থীরা

স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দ্বিতীয় সর্বাধিক ভোট পেয়েছেন ময়মনসিংহ-৬ আসনের আখতার সুলতানা (৫৩,৩৩১)। ঢাকা-৯ আসনে তাসনিম জারা পেয়েছেন ৪৪,৬৮৪ ভোট। বরিশাল-৫ আসনে মনীষা চক্রবর্তী পেয়েছেন ২২,৪৮৬ ভোট। লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে তানিয়া রব পেয়েছেন ২২,০৪০ ভোট।

ব্যবধান কম হলেও হার

মাদারীপুর-১ আসনে নাদিরা আক্তার মাত্র ৩৮৫ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন, যা এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে কম ব্যবধানের হার।

সবচেয়ে বেশি ভোট

নারী প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েছেন মানিকগঞ্জ-৩ আসনের আফরোজা খানম—১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট। দ্বিতীয় সর্বাধিক ভোট পেয়েছেন ফরিদপুর-৩ আসনের নায়াব ইউসুফ আহমেদ—১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোট।

সর্বনিম্ন ভোট

দুজন নারী প্রার্থী পেয়েছেন মাত্র ১৫৩ ভোট। মোট ২৭ নারী প্রার্থী ৩০০-এর নিচে ভোট পেয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২১ জন দলীয় ও ৬ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী।