ঢাকা, শুক্রবার ০৬, মার্চ ২০২৬ ৪:৪৩:২৯ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খোলার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর খালেদা জিয়াসহ ২০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান পাচ্ছে স্বাধীনতা পুরস্কার দেশে ফিরলেন দুবাইয়ে আটকে পড়া ১৮৯ বাংলাদেশি টানা ৭ দিনের ছুটিতে যাচ্ছে দেশ, ১৬ মার্চ শুরু রাজধানী ঢাকার আকাশ আজ মেঘলা থাকতে পারে ঈদযাত্রায় ট্রেনের তৃতীয় দিনের টিকিট বিক্রি শুরু

ঈদ উপলক্ষে ব্যস্ত দর্জিপাড়া, ঘটঘট শব্দে চলছে মেশিন

অনু সরকার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১০:২০ এএম, ৫ মার্চ ২০২৬ বৃহস্পতিবার

ঈদ উপলক্ষে ব্যস্ত দর্জিপাড়া, ঘটঘট শব্দে চলছে মেশিন

ঈদ উপলক্ষে ব্যস্ত দর্জিপাড়া, ঘটঘট শব্দে চলছে মেশিন

ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই ব্যস্ত হয়ে উঠছে রাজধানীর দর্জি পাড়াগুলো। সকাল থেকে গভীর রাত—কোথাও থামছে না সেলাই মেশিনের ঘটঘট শব্দ। কাপড়ের রোল, কাটা প্যাটার্ন, বোতাম-চেইন আর সুতোয় ভরে গেছে ছোট-বড় টেইলার্সের দোকান। ঈদকে সামনে রেখে নতুন পোশাক তৈরির চাপে এখন দম ফেলার ফুরসত নেই দরজিদের।

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, টেইলার্সের দোকানগুলোতে গ্রাহকদের ভিড় লেগেই আছে। কেউ নতুন পাঞ্জাবি বানাতে কাপড় দিয়ে যাচ্ছেন, কেউ আবার শাড়ির ব্লাউজ বা থ্রি-পিসের সেলাই দিতে এসে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। অনেক দোকানে ইতিমধ্যে নতুন অর্ডার নেওয়াও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

দোকানের ভেতরে ঢুকলেই দেখা যায় এক ভিন্ন দৃশ্য। কেউ কাপড় কাটছেন, কেউ মেশিনে দ্রুত সেলাই করছেন, আবার কেউ বোতাম লাগানো বা ফিনিশিংয়ের কাজ করছেন। ছোট্ট দোকানের ভেতরে একসঙ্গে চার-পাঁচজন কর্মী কাজ করছেন। চারদিকে শুধু কাপড় আর কাজের ব্যস্ততা।

রাজধানীর রজনী টেইলার্সের মালিক আবদুল কাদের বলেন, “ঈদের এক মাস আগে থেকেই কাজ বাড়তে থাকে। এখন তো দিন-রাত এক করে কাজ করতে হচ্ছে। অনেক অর্ডার ফিরিয়েও দিতে হচ্ছে। সব সামলানো সম্ভব হয় না।”

তিনি জানান, সাধারণ সময়ে দিনে ১০–১৫টি পোশাকের অর্ডার এলেও এখন প্রতিদিন ৩০–৪০টি পর্যন্ত অর্ডার জমা পড়ছে। ফলে দোকানের কর্মীদেরও অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে।

কারিগর মিজানুর রহমান বলেন, “সকাল ৯টা থেকে কাজ শুরু করি, অনেক দিন রাত ১টা পর্যন্ত মেশিন চালাতে হয়। ঈদের আগে এই কদিনই আমাদের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। ক্লান্তি থাকলেও কাজ করে যেতে হয়।”

অন্যদিকে ক্রেতারাও চান ঈদের দিন নতুন পোশাক যেন একদম ফিটিং ও সুন্দর হয়। তাই অনেকে রেডিমেড না কিনে পছন্দমতো কাপড় দিয়ে পোশাক বানাচ্ছেন। এতে দরজিদের ওপর চাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে।

ক্রেতা সুমাইয়া আক্তার বলেন, “ঈদের পোশাকটা একটু আলাদা করে বানাতে চাই। তাই নিজের পছন্দের ডিজাইনে সেলাই দিচ্ছি। কিন্তু এখন দরজিদের এত ব্যস্ততা যে সময়মতো ডেলিভারি পাওয়া নিয়েও একটু দুশ্চিন্তা আছে।”

টেইলার্স ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের আগে শেষ দুই সপ্তাহই সবচেয়ে বেশি চাপের সময়। তখন অর্ডার, ডেলিভারি ও ফিনিশিং—সব মিলিয়ে টানা কাজ করতে হয়। অনেক দোকানে বাড়তি কারিগরও নিয়োগ দেওয়া হয়।

এদিকে দর্জি পাড়ার অলিগলিতে সন্ধ্যার পরেও আলো জ্বলছে টেইলার্সের দোকানে। মেশিনের শব্দে যেন পুরো এলাকা মুখর। কেউ কাপড় ট্রায়াল দিচ্ছেন, কেউ শেষ মুহূর্তে মাপ ঠিক করাচ্ছেন। সব মিলিয়ে ঈদকে ঘিরে ব্যস্ততার এক আলাদা আবহ তৈরি হয়েছে।

দর্জিরা বলছেন, এই ব্যস্ততাই তাদের বছরের সবচেয়ে বড় আয়ের সময়। তাই ক্লান্তি ভুলে তারা কাজ করে যাচ্ছেন, যেন ঈদের দিন সবাই নতুন পোশাকে হাসিমুখে উৎসব উদযাপন করতে পারেন।