ঢাকা, বুধবার ২৫, ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ৪:২১:১৫ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
শিক্ষকের অভাবে পাহাড়ে মাতৃভাষায় শিক্ষা ব্যাহত ব্রুকের সেঞ্চুরিতে বিজয়ী হয়ে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড বইমেলা শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ঈদের ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু ৩ মার্চ ১০ মার্চ থেকে ১৪ উপজেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ, মাসে ২,৫০০ টাকা ১০ হাজার শিক্ষার্থী পাবে ভাষা ও কারিগরি দক্ষতা

এই রমজানে নানা রকম বাহারি শরবত

অনু সরকার | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১২:২৭ এএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বুধবার

এই রমজানে নানা রকম বাহারি শরবত

এই রমজানে নানা রকম বাহারি শরবত

রমজান এলেই ঘরে ঘরে বদলে যায় পানীয়ের তালিকা। সারা দিনের রোজার পর ইফতারের টেবিলে প্রথম যে জিনিসটি মুখে লাগে, তা হলো এক গ্লাস ঠান্ডা শরবত। শরীরের ক্লান্তি আর গলা শুকিয়ে যাওয়ার কষ্ট যেন মুহূর্তেই কমে আসে। এই এক গ্লাস শরবত শুধু পানীয় নয়—এটি রোজাদারের কাছে এক ধরনের স্বস্তি, প্রশান্তি ও উৎসবের অংশ।

শরবতের ঐতিহ্য

উপমহাদেশে শরবতের ইতিহাস বহু পুরোনো। মুঘল আমল থেকেই শরবত ছিল রাজদরবারের পরিচিত পানীয়। তখন গোলাপ, বেল, খাসখাস, আনারস, তেঁতুল কিংবা লেবু দিয়ে তৈরি নানা ধরনের শরবত জনপ্রিয় ছিল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ঐতিহ্য ঘরের রান্নাঘরে এসে ঠাঁই পেয়েছে। রমজান মাসে তা পেয়েছে আলাদা মর্যাদা।

ইফতারের টেবিলে শরবতের ভূমিকা

দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হয়। শরবত সেই ঘাটতি পূরণ করে। লেবু, বেল, তেঁতুল বা ফলের শরবত শরীরকে দ্রুত সতেজ করে তোলে। তাই অনেক পরিবারেই ইফতারের শুরু হয় শরবত দিয়েই—তারপর আসে খেজুর, ছোলা-মুড়ি, হালিম কিংবা পিয়াজু।

বাহারি শরবতের তালিকা

রমজানে বাজারে ও বাসায় তৈরি হয় নানা স্বাদের শরবত। তার মধ্যে কয়েকটি বিশেষভাবে জনপ্রিয়—

লেবুর শরবত:
সবচেয়ে সহজ ও পরিচিত। লেবু, চিনি বা গুড়, সামান্য লবণ আর ঠান্ডা পানি—এই চার উপাদানেই তৈরি হয়ে যায় এক গ্লাস সতেজ পানীয়।

বেলের শরবত:
হজমের জন্য খুব উপকারী। বেল শাঁস, পানি ও সামান্য চিনি মিশিয়ে বানানো এই শরবত গরমের ক্লান্তি দূর করে।

তেঁতুলের শরবত:
মিষ্টি-টক স্বাদের জন্য আলাদা আকর্ষণ। অনেক জায়গায় এতে পুদিনা পাতা মিশিয়ে স্বাদ বাড়ানো হয়।

রুহ আফজা বা গোলাপ শরবত:
গোলাপের সুগন্ধে ভরা এই শরবত রমজানের এক পরিচিত নাম। দুধ বা পানির সঙ্গে মিশিয়ে পরিবেশন করা হয়।

ফলের শরবত:
তরমুজ, আনারস, কমলা বা আপেল—যে কোনো ফল ব্লেন্ড করে বানানো শরবত এখন অনেক পরিবারের পছন্দের তালিকায়।

তোকমা (সবজা) শরবত:
তোকমা ভিজিয়ে লেবু ও চিনি দিয়ে বানানো এই শরবত শরীর ঠান্ডা রাখে এবং পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।

স্বাস্থ্য ও শরবত

শরবত শুধু তৃষ্ণা মেটায় না, শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতেও সহায়তা করে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, অতিরিক্ত চিনি দেওয়া শরবত স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই ঘরে বানানো শরবত সবচেয়ে ভালো। এতে চিনি কমিয়ে গুড় বা মধু ব্যবহার করা যায়। পাশাপাশি কৃত্রিম রং ও ফ্লেভারযুক্ত শরবত এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।

খোলাবাজারের শরবত: ঝুঁকি ও সতর্কতা

রমজানে ফুটপাতে নানা রঙের শরবতের পসরা বসে। দেখতেও লোভনীয়। কিন্তু সেগুলো অনেক সময় অপরিষ্কার পানি ও বরফ দিয়ে তৈরি হয়। এতে ডায়রিয়া, পেটের অসুখ বা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। তাই রাস্তার শরবত খাওয়ার আগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা জরুরি।

শরবত ও পারিবারিক আবহ

শরবত বানানো শুধু রান্নার কাজ নয়, এটি পারিবারিক আনন্দেরও অংশ। কেউ লেবু কাটে, কেউ চিনি গুলে, কেউ বরফ ভাঙে। ইফতারের ঠিক আগে সবাই মিলে গ্লাসে শরবত ঢেলে রাখে। এই ছোট্ট আয়োজনই ঘরে এনে দেয় রমজানের উষ্ণতা।

নতুন ধারার শরবত

এখন অনেক পরিবারে চা-শরবত, কফি-শরবত, দই-শরবত কিংবা চিয়া সিড শরবতের মতো নতুন ধরনের পানীয় তৈরি হচ্ছে। স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ ফল, বীজ আর ভেষজ উপাদান মিশিয়ে নিজস্ব রেসিপি বানাচ্ছেন।

শরবত: স্বাদ ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন

রমজানের শরবত কেবল পানীয় নয়, এটি এক ধরনের সংস্কৃতি। এতে আছে ঐতিহ্য, পরিবারের ভালোবাসা আর একসঙ্গে বসে ইফতার করার আনন্দ। রোজার শেষে এক গ্লাস শরবত যেন বলে দেয়—দিনের কষ্ট শেষ, এখন প্রশান্তির সময়।

রমজানের ইফতারে বাহারি শরবত তাই শুধু তৃষ্ণা মেটায় না, মেটায় মনও। এক গ্লাস ঠান্ডা শরবতের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে রোজার আসল স্বাদ—সংযমের পর স্বস্তি।