ঢাকা, মঙ্গলবার ০৩, মার্চ ২০২৬ ৪:৫৯:১৮ এএম

First woman affairs online newspaper of Bangladesh : Since 2012

Equality for all
Amin Jewellers Ltd. Gold & Diamond
শিরোনাম
মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় আহত খামেনির স্ত্রীও মারা গেলেন ঈদযাত্রায় ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু আজ সকাল থেকে বাংলাদেশের ‘মিশন অস্ট্রেলিয়া’ শুরু আজ সন্ধ্যায় একুশে বইমেলা: পঞ্চম দিনেও ফাঁকা, হতাশ বিক্রেতারা মধ্যপ্রাচ্য হামলায় ২ বাংলাদেশি নিহত, আহত ৭

একুশে বইমেলা: পঞ্চম দিনেও ফাঁকা, হতাশ বিক্রেতারা

রাতুল মাঝি | উইমেননিউজ২৪

প্রকাশিত : ১১:০০ পিএম, ২ মার্চ ২০২৬ সোমবার

ছবি: সংগ্রহিত।

ছবি: সংগ্রহিত।

অমর একুশে বইমেলার পঞ্চম দিনেও দেখা গেল হতাশাজনক চিত্র। ছুটির দিন না হওয়ায় সকাল থেকে মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীর উপস্থিতি ছিল খুবই কম। দুপুর গড়িয়ে বিকেল পর্যন্ত অধিকাংশ স্টলে ক্রেতার অপেক্ষায় বসে থাকতে দেখা গেছে প্রকাশকদের। সন্ধ্যার পর, বিশেষ করে ইফতারের পর কিছু মানুষ মেলায় ঢুকলেও বই কেনার আগ্রহ তেমন চোখে পড়েনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, শিশু-কিশোর কর্নার থেকে শুরু করে কবিতা, গল্প, উপন্যাস ও গবেষণাধর্মী বইয়ের স্টলগুলোতে বিক্রেতারা বসে আড্ডা দিচ্ছেন বা মোবাইল ফোনে সময় কাটাচ্ছেন। কয়েকটি জনপ্রিয় প্রকাশনীর স্টলেও ক্রেতা ছিল হাতে গোনা।

বিক্রেতাদের হতাশা: একটি প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী রফিকুল ইসলাম বলেন, “আজ পঞ্চম দিন। কিন্তু বিক্রি বলতে গেলে কিছুই হয়নি। ইফতারের পর লোকজন আসে ঠিকই, ঘোরে, ছবি তোলে, কিন্তু বই কেনে না।”

আরেক প্রকাশক জানান, “রমজান চলছে বলে মানুষ আগের মতো সময় দিতে পারছে না। সবাই ইফতার, তারাবি আর ঈদের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। মেলায় আসে মূলত ঘুরতে।”

একটি ছোট প্রকাশনীর মালিক বলেন, “স্টল ভাড়া, কর্মচারীর বেতন—সব মিলিয়ে খরচ বাড়ছে। অথচ বিক্রি নেই বললেই চলে। এভাবে চললে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।”

পাঠকের উপস্থিতি, কিন্তু ক্রেতা কম: সন্ধ্যার পর পরিবার নিয়ে কিছু দর্শনার্থীকে মেলায় প্রবেশ করতে দেখা গেছে। তরুণ-তরুণীরা দল বেঁধে ঘুরছেন, সেলফি তুলছেন, নতুন বই উল্টেপাল্টে দেখছেন। তবে বেশির ভাগই দাম জেনে বই রেখে দিচ্ছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তানভীর হাসান বলেন, “মেলায় ঘুরতে এসেছি। নতুন বই দেখলাম, কিন্তু এখন কেনা সম্ভব না। ঈদের খরচ আছে, তাই আপাতত দেখেই যাচ্ছি।”

আরেক দর্শনার্থী রাবেয়া সুলতানা বলেন, “প্রতি বছরই মেলায় বই কিনি। এবার সময়ও কম, বাজেটও কম। তাই ইচ্ছে থাকলেও কিনতে পারছি না।”

সার্বিক চিত্র: মেলার প্রবেশপথ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশ এবং বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ—সব জায়গাতেই জনসমাগম ছিল তুলনামূলক কম। স্টলের সামনে ফাঁকা চেয়ার, অলস বিক্রেতা আর নিস্তব্ধ পরিবেশ যেন পুরো মেলার চিত্রটাই তুলে ধরছে।

প্রকাশকরা আশা করছেন, ছুটির দিনগুলোতে এবং রমজান শেষের দিকে মেলায় ভিড় ও বিক্রি বাড়তে পারে। তবে এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি তাদের প্রত্যাশার সঙ্গে মিলছে না।

উপসংহার: পঞ্চম দিনের বইমেলায় ইফতারের পর কিছু মানুষের উপস্থিতি থাকলেও বিক্রিতে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। দর্শনার্থী থাকলেও ক্রেতা নেই—এই বাস্তবতায় হতাশ প্রকাশক ও বিক্রেতারা তাকিয়ে আছেন সামনের দিনগুলোর দিকে।

বইমেলা এখন যেন পাঠকের চেয়ে পথচারীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে—যেখানে বই আছে, কিন্তু বিক্রি নেই।